খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিনব্যাপী স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিনব্যাপী ‘স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল: সিজন-১’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (কেইউআরএস) আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ফরমাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাজীবনে একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারলে তা একদিকে যেমন একাডেমিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপাচার্য বর্তমান সরকারের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে মডার্ন রিসার্চ ফ্যাসিলিটি, কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ ফান্ডিং, স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট ক্যাম্পাস ও ডিজিটাল রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ জ্ঞান সৃষ্টি করা। স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল বিশ্ব দরবারে নিজেদের উপস্থাপনের একটি সুযোগ। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল থিংকিং, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, রিসার্চ রাইটিং ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য থাকা উচিত বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, গবেষণা একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। এ যাত্রায় এগিয়ে যেতে প্রয়োজন সুযোগ-সুবিধা, আর স্কলারশিপ সেই সুযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্কলারশিপ অর্জন শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানের বিষয়। তাই এর জন্য আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, একসময় স্কলারশিপ সম্পর্কে তথ্য পাওয়াও কঠিন ছিল। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের নাগালে চলে এসেছে। শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন, কেইউআরএসের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মতিউল ইসলাম ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াছিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি চয়ন বক্সী।
ফরমাল সেশন শেষে ‘DAAD Scholarship’-এর আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত। এছাড়া ‘MEXT Scholarship’-এর আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল তুলে ধরেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম।
দুদিনব্যাপী এ ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
ভোরের আকাশ/জেআ