উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে নতুন উদ্যোগ ইউজিসির

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
এসব অফিসের মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান সংগ্রহ এবং যৌথ গবেষণাগার ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইউজিসিতে আয়োজিত ‘ইরাসমাস প্লাস ইনফো সেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার মান, গবেষণার সক্ষমতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের ওপর। তাই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে ইউজিসি কাজ করছে।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু বিদেশে পাঠানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ল্যাবরেটরি স্থাপন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বাস্তব ও স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজা হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা অবকাঠামো ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ইন্টারন্যাশনাল ও রিসার্চ অফিসগুলো আন্তর্জাতিক বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, ফেলোশিপ, একাডেমিক বিনিময় ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করবে।
এসব অফিস কার্যকর ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের বিষয়েও ইউজিসি সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের অগ্রাধিকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিকীকরণের নিজস্ব কৌশল প্রণয়ন করতে হবে বলে জানান তিনি।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের শুধু ‘ব্রেন ড্রেন’ হিসেবে না দেখে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এর মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি একাডেমিক ডায়াসপোরা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের গবেষণা, পাঠদান, যৌথ প্রকল্প ও গবেষণা তত্ত্বাবধানে সম্পৃক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইন্টারন্যাশনাল অফিস আন্তর্জাতিক বৃত্তি, গবেষণা অনুদান ও অংশীদারত্বের সুযোগ চিহ্নিত করে তা কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যক্তি-নির্ভর না হয়ে আরও টেকসই ও ধারাবাহিক হবে।
ইউজিসি সদস্য আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ কর্মসূচির সুযোগ সম্পর্কে আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন এবং ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্কের এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/জেআ