গাইবান্ধায় ঘাঘটের করাল গ্রাসে ভাঙনের মুখে বসতভিটা ও ফসলি জমি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নে আবারও ভয়াল রূপ নিয়েছে ঘাঘট নদী।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। এতে নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে কবরস্থান, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ এলাকার ঘাঘট নদীপাড়ের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী হাসিনা বেওয়ার জীবন যেন নদীভাঙনের আরেক নাম। বিয়ের পর থেকে ঘাঘটের করাল গ্রাসে তার বসতভিটা ভেঙে গেছে অন্তত ২০ বার। বর্তমানে যে জায়গায় তিনি বসবাস করছেন, সেটিই তার ২১তম বসতি।
প্রতিবারই নতুন করে ঘর তুলেছেন, আবার নদীর ভাঙনে তা হারিয়েছেন। এবারও ঘাঘটের অস্বাভাবিক ভাঙন দেখে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। রাতভর নির্ঘুম থেকে ভাবছেন শেষ আশ্রয়টুকুও হয়তো এবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
শুধু হাসিনা বেওয়াই নন, তার মতো একই দুর্ভোগে রয়েছেন চামেলী বেগম, উজ্জ্বল, রুবেলসহ নদীপাড়ের প্রায় শতাধিক পরিবার। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘাঘট নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে নদীর বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীর ঘেঁষে থাকা একাধিক কবরস্থানও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় কবরস্থানগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রাম সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। সেই সঙ্গে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবিক বিপর্যয় এড়াতে তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, 'ভাঙনকবলিত স্থানগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।'
ঘাঘট নদীর ভাঙন শুধু বসতভিটা নয়, কেড়ে নিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। নদীপাড়ের অসহায় মানুষের এখন একটাই অপেক্ষা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ভাঙন থামুক, রক্ষা পাক তাদের শেষ আশ্রয়।
ভোরের আকাশ/ র.ই