নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহারে মাটির মেটে বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২৫০টি পরিবারের মধ্যে মাটির তৈরি পানির পাত্র (মেটে) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে আটজন নারীর হাতে মাটির মেটে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ শামসুজ্জাহান কণক।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিকের পাত্রে পানি সংরক্ষণের প্রবণতা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ। এর পরিবর্তে মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই একটি বিকল্প।
ইউএনও আরও বলেন, মাটির মেটেতে সংরক্ষিত পানি প্রাকৃতিকভাবে শীতল থাকে, বিদ্যুৎ ছাড়াই পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ বজায় রাখে এবং প্লাস্টিকজনিত দূষণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে মাটির পাত্র ব্যবহারে আরও উৎসাহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণের কৌশল, মাটির মেটে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম এবং এর স্বাস্থ্যগত, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, মাটির পাত্রের ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় কুমোর শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। তাই পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে ঐতিহ্যবাহী মাটির পাত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বারসিকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নিরাপদ পানি সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
ভোরের আকাশ/জেআ