কুড়িগ্রামে বাঁধ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সিসি (কংক্রিট) ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাঁচকোল-সড়কটারী এলাকায় ময়নার খামার যুব সংঘ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে এলাকার বসতভিটা, আবাদি জমি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় স্থানীয়দের। ইতোমধ্যে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কাঁচকোল বাজার থেকে ফকিরেরহাট বাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, কাঁচকোল-ফকিরেরহাট সড়কটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এ সড়কের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। তাই অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দ্রুত স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ময়নার খামার যুব সংঘের উপদেষ্টা মোছা. নিহারিকা শারমিন (দীপি), সভাপতি মো. মজিদুল হক মুকুল মণ্ডল, সহসভাপতি মো. মঞ্জু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. হিরন মণ্ডল এবং স্থানীয় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শমসের আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কর্মসূচি শেষে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন আয়োজকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফকিরেরহাট থেকে কাঁচকোল এলাকার মধ্যবর্তী অংশে সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। চলতি মাসেই চার দফায় প্রায় ২০০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় নতুন করে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামতের জন্য চার দফায় মোট ২৪ হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত স্থানে সঠিকভাবে জিওব্যাগ ফেলা হয়নি। ফলে ভাঙনের ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে। এ অবস্থায় স্থায়ী ও টেকসই নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ