সাভারে আবারও প্রেসারকুকার বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঢাকার সাভারে আবারও বোমা সদৃশ একটি প্রেসারকুকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠ থেকে নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর কাপড়চোপড় ও কোরআন শরিফের সঙ্গে প্রেসারকুকারটি পাওয়া যায়। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ বস্তুটি ঘিরে রাখে। এটি আদৌ প্রেসারকুকার বোমা কি না, তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরে ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয়রা। ড্রামটির ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফ ও একটি প্রেসারকুকার ছিল। পরে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে প্রেসারকুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের দাবি, রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যান। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফসহ একটি প্রেসারকুকার পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রেসারকুকার বোমা হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর বেঞ্চে রাখা একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে প্রেসারকুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপদ স্থানে বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
এদিকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পুলিশের দাবি, ওই অভিযানে নয়টি পাইপ সদৃশ বোমা, জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না। গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আমরা বাসা ভাড়া দিই। তাঁরা জানিয়েছিলেন, গ্রামের বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুর এলাকায়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে তাঁদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাবেন। ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলেই আমরা বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু বাসার ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখবেন, তা আমরা কোনোভাবেই জানতাম না।’
সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে মোট ১৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এক যুবককে সিটিটিসি আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত বিস্ফোরক ও বোমা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে সিটিটিসির সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন।’সাভারে পরপর বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সাধাপুরে উদ্ধার হওয়া প্রেসারকুকারটি আসলে বোমা কি না, তা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা