মোহনগঞ্জে মব সৃষ্টি করে শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ
শিক্ষক হলেন জাতি গড়ার কারিগর, আর সেই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে হেনস্তার অভিযোগ ওঠেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম নিজের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না।
বিষয়টি শনিবার (৮ নভেম্বর) নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের হাছলা গ্রামের মো. তাজুল ইসলাম পৈতৃক এক একর ৪৯ শতাংশ জমির ওপর ১১৯৮ সালে হাছলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় কিছু লোকের সাথে তাঁর মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের তাদের তৎপরতা বেড়ে যায়। একের পর এক
মিথ্যা অভিযোগ করে বিদ্যালয়ে যেতে বাঁধার সৃষ্টি করে। গত ২৬ অক্টোবর বিকেলে মোহনগঞ্জ উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রামে তাঁকে আটক করে। জীবন বাচাঁতে
শিক্ষক তাজুল ইসলাম ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা থানায় গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় সুধী মহল ও শিক্ষক সমাজের দাবি ‘মব’ সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি উঠেছে।
সরজমিনে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার হাছলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম। তিনি একজন শিক্ষক ১৯৯৮ সালে
নিজের পৈতৃক সম্পত্তির এক একর ৪৯ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকায় খুঁজে খুঁজে বিদ্যালয়ের জন্য ছাত্র-ছাত্রী ও
মেধাবী শিক্ষক এনেছেন।
গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়ালেখা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তিনি জেলার প্রধান শিক্ষক হিসেবে বারবার পুরস্কার পেয়েছেন। জীবনের সমস্ত অর্জন এই স্কুলটির পিছনে ব্যয় করেছেন তাজুল ইসলাম। একজন গুণী শিক্ষক হিসেবে আজ হেনস্তার শিকার হয়েছেন। নিজ স্কুলে কর্মরত কিছু লোভী মুখোশধারী শিক্ষকদের লেলিয়ে দেওয়া কিছু বিপথগামী যুবক এই গুণী শিক্ষককে হেনস্তা করেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে।
বারবার অভিযোগ করেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া, বিএনপি কর্মী মো. আবু হানিফার নেতৃত্বে স্থানীয় কিছুলোক শিক্ষক তাজুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে যেতে দিচ্ছে না। তারা প্রায় সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেয় এবং শিক্ষক তাজুল ইসলামকে নানা ভয়- ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এতে জীবনের ভয়ে তাজুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যেতে সাহস পান না।
স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা জানান, প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম কোনো রাজনীতি দলের সাথে জড়িত নেই অথচ কিছু লোক এই প্রধান শিক্ষকের
বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। ষড়যন্ত্র করে একটি রাজনীতি দলের সাথে সম্পৃক্ত করে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান থানায় একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, বিকেলে তাজুল ইসলাম তাঁর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা প্রকাশ হলে বজলুর রহমান নিজেই অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পুলিশ আবেদন ফেরত দিলেও মিথ্যা অভিযোগ করার বিষয়টি আমলে নেয়নি।
‘আওয়ামী লীগ ট্যাগ’ দিয়ে পুরোনো একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য মোহনগঞ্জ থানার ওসির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কোনো প্রমাণ না পাওয়ায়
পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পদ-পদবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে শিক্ষক
তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হচ্ছে। গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন
এডহক কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামকে ছুটিতে পাঠিয়ে সহকারী শিক্ষক বজলুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন।
এই ক্ষমতা নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর উপজেলার বিএনপি নেতা মো. আবু হানিফা, মো. সাদেক মিয়া, বিএনপি কর্মী মো. খায়রুল ইসলাম, মো. আবু হানিফ, মো. আনিসুর রহমান, মো, রুবেল মিয়াসহ ২৫- ৩০জনের মিলে প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামের উপর মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা
ঘটিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু হানিফা ও সাদেক মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া
যায়।
হাছলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, আমি কোন রাজনীতি করি না। আমাকে মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা মেরে
ফেলার জন্য আমার উপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। ওরা আমাকে স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সকলকে জানিয়েছি।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কিছু লোক তাকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে আটকে রাখেণ্ধসঢ়; খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে
তাকে উদ্ধার করে। তবে তিনি কোনো রাজনীতিক দলের সাথে থাকার বিষয়টি মিথ্যে। অহেতুক তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.