বগুড়ায় লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন

লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে বগুড়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন বটতলায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কালচারাল অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, লালন সাঁইয়ের অহিংসা, সাম্য ও মানবধর্মের দর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে অর্থবহ করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীতদলের ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ ও ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’—এ দুটি সমবেত সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়।
এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী উম্মে সুমাইয়াতুল অথৈ, দোলা রানী পোদ্দার, মহুয়া হাসান ইপশিতা ও নবনীতা ঘোষ। তাঁদের পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’, ‘চাতক বাঁচে কেমনে’, ‘যেখানে সাঁইর বারামখানা’ এবং ‘বল স্বরূপ কোথায় আমার’। এ ছাড়া আমন্ত্রিত বাউলশিল্পী আশুতোষ দাস ও জাহাঙ্গীর বাউল সংগীত পরিবেশন করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানের সুরে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল। যন্ত্রসংগীতে ছিলেন কী-বোর্ডে হাসিনুর রহমান হাসু, ঢোলে পরিতোষ দাস, তবলায় বিমল কবিরাজ এবং দোতারায় জয়দেব মজুমদার।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন তাছবিতা এহসান।
ভোরের আকাশ/ইউএম