ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ আষাঢ়িয়ারচর সেতু দূর্ঘটনার শঙ্কায় চালক ও যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ আষাঢ়িয়ারচর সেতু দিয়ে প্রতিদিন দূর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন চালক ও যাত্রীরা। দেশের ব্যস্ততম ও প্রধান বাণিজ্যিক মহাসড়কের একটি হল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
যার ফলে প্রতিদিন পর্যটন ও বানিজ্য নগরী কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, ল²ীপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লাসহ ১৪ টি জেলার দুরপাল্লার যাত্রীবাহি বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন আসা যাওয়া করে এমহাসড়কে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর ওপর নির্মিত আষাঢ়িয়ারচর সেতুটি বর্তমান সময়ে খানাখন্দে যান চলাচলের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে কাঁচপুর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সোনারগাঁ অংশে বিভিন্নস্থানে খানাখন্দে ভরা এসড়কে প্রতিনিয়ত যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ মহাসড়কে যান চলাচল সচল রাখতে একাধিকবার জোড়াতালি দিয়ে আষাঢ়িয়ারচর সেতুটি সংস্কার করলেও স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহন করেনি কেউ।
এমহাসড়কে প্রতিদিন আসা যাওয়া করা সেন্টমার্টিন পরিবহনের চালক আব্দুল খালেক বলেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কের অন্যতম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ঢাকা যাওয়ার পথে মেঘনা টোলপ্লাজার পর আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে গর্ত তৈরি হওয়ায় সেতুটি এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কখন কোন গাড়ীর চালক দূর্ঘটনার শিকার হয় তা কেউ জানেনা। বড় ধরনের দূর্ঘটনাতে এড়াতে দ্রæত সেতুটি স্থায়ী মেরামত করা প্রয়োজন।
পণ্যবাহী ট্রাক চালক আবুল কালাম বলেন, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত বিভিন্ন মালামাল নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। মেঘনা টোলপ্লাজার পর ভারী যানবাহন নিয়ে আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে উঠার সময় মনে অনেক অজানা ভয় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, কখন জানি দূর্ঘটনার শিকার হই। বৃষ্টির কারনে সেতুতে গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন যাতায়ত কালে বিরম্বনার শিকার হচ্ছে চালকরা। সাবধানতা অবলম্বন করে সেতুতে ধীর গতিতে যান চলাচলের কারনে অনেক সময় যানজটে পড়তে হয়। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে সেতুতে যান চলাচল সচল রেখেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রæত এ সেতুটি স্থায়ী মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন জানান, দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সব সময় সচল রাখতে আষাঢ়িয়ারচর সেতুটি দ্রæত মেরামত করা প্রয়োজন। এছাড়া মেঘনা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে সওজ কর্তৃপক্ষের নজরদারীসহ তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা। সওজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, সেতু মেরামতের পাশাপাশি সড়ক সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ শামীম শেখ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দ ও জরাজীর্ণ আষাঢ়িয়ারচর সেতুর কারণে প্রায় সময় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এছাড়া মদনপুর-গাজীপুর বাইপাস সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় আগের তুলনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ছে। স্বল্প জনবল দিয়ে মহাসড়ক সচল রাখতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আষাঢ়িয়ারচর সেতুটি লোহার পাঠাতন দিয়ে সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আষাঢ়িয়ারচর সেতুটি পুনরায় ঢালাই দিয়ে সংস্কার করা হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব