চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক কারাগারে

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে কাটাখালি উমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত রোববার (১ নভেম্বর) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ধানীখোলা ইউনিয়নের কাটাখালি উমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে স্বাক্ষর করে আরিফা সুলতানা নামের এক নারীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ টাকা নেন তিনি। লিখিত অঙ্গীকারনামায় তিন মাসের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরি না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নানা টালবাহানা শুরু করেন। পরে ভুক্তভোগী আরিফা সুলতানা ও তাঁর স্বামী আবুল হোসেন টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা ফেরত না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে একাধিকবার দেনদরবার করেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে আরিফা সুলতানার স্বামী আবুল হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আদালতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় চুক্তি ভঙ্গ, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
মামলার ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১ নভেম্বর) তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা