উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি : এক শিশুর মৃত্যু, আহত ৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোজাহেদ (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহেরা বেগমসহ অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শতাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে পুরো ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
গোলাগুলির সময় নিজ ঘরে থাকা শিশু মোজাহেদের মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির কারণে ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। নারী ও শিশুরাও এর বাইরে নয়। ক্যাম্পজুড়ে স্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক রোহিঙ্গা প্রতিনিধি বলেন, আরসা ও আরএসওসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সংঘর্ষে বহু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এপিবিএনের উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এআরএ ও আরএসও-এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ঘটনায় জড়িতদের আটকের লক্ষ্যে ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা