শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে শীতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ, বাড়ছে আক্রান্ত-মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২:২৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

চট্টগ্রামে শীতেও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। চলতি (নভেম্বর) মাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩৫ জন। আর এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এছাড়া মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪১৮ জন। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ জন। গত আগস্ট্ মাস থেকে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু রোগী। চলিত মাসে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে গত বছরের চিত্রও প্রায় একই ছিল।

সিভিল সার্জন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)  জরিপ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৫টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর, বন্দর, সদরঘাট, বাকলিয়া, বায়েজিদ, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, খুলশী, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা, লালখানবাজার, আন্দরকিল্লা, কাট্টলী, দেওয়ানহাট, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চন্দনপুরা ও মোহাম্মদপুর।

এছাড়া বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর ও সদরঘাটকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ নভেম্বর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে নগরীতে। এরপরও প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর (২৬ নভেম্বর) পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮ জন, মার্চে ২২ জন, এপ্রিলে ৩৩ জন, মেতে ১১৬ জন, জুনে ১৭৬ জন, জুলাইয়ে ৪৩০ জন, আগস্টে ৭০৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৩৫ জন, অক্টোবরে ৯৯০ জন এবং নভেম্বরে ৮৮৩ জন আক্রান্ত হন।  আগস্ট থেকে নভেম্ব পর্যন্ত চার মাসে আক্রান্ত ৩ হাজার ৫৪৩ জন।

২০২৪ সালের আগস্ট  থেকেও ছিল প্রায় একই চিত্র। আগস্টে ৭০৫জন, সেপ্টেম্বরে ৯০৭ জন, অক্টোবরে ১ হাজার ৪৩০ জন ও নভেম্বরে ১ হাজার ২৮ জন আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্ত ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুও হয়েছে ২৫ জনের। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কের কিছু নেই। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললেই ঝুঁকি মুক্ত থাকা যাবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বিস্তার সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এরকম বৃষ্টি ছিল। এর মধ্যে আমরা জরিপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর ২৫টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪টি এলাকাকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে চসিকে মশক নিধন জোরদারে চিঠি দিয়েছে। তারাও ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। আশা করি মশার উৎপাত কমলে ডেঙ্গুও কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। জ্বর হলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু অনেকেই জ্বর নিয়ে অবহেলা করে নিজেরাই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সেবন করে। এতে পরবর্তীতে জটিল রোগীর পরিস্থিত তৈরি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনার কোনো বিকল্প নেই। কাজেই ঘুমানোর আগে মশা টাঙানো, বাড়ির কোথাও পানি জমতে না দেয়া এবং বাড়ির আঙিনা অবশ্যই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা। কারণ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

ভোরের আকাশ/জাআ

চট্টগ্রামডেঙ্গু

শেয়ার করুন: