মাগুরায় গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও আদর্শচ্যুতির অভিযোগ’ তুলে মাগুরা জেলা, যুব, ছাত্র ও শ্রমিক শাখার শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে মাগুরা শহরের সাজিয়াড়া এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা, যুব, ছাত্র ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো. রাসেল মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. মাজেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক এম. ফররুখ আহমেদ, যুব অধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক মো. ইমামুল মোল্লা এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক অর্থ সম্পাদক পল্লব বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদে বসাচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আত্মপ্রচার ও ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতি সংগঠনের আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
তারা আরও বলেন, দলটি এখন আর রাজপথে লড়াইয়ের মাধ্যমে গণমানুষের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে না। বরং একটি ব্যক্তি-নির্ভর প্রচারণার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। যে স্বপ্ন নিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে সংগঠনটি গড়ে উঠেছিল, তা আজ বাস্তবায়নের পথ হারিয়েছে।
তবে তারা স্পষ্টভাবে জানান, তারা কোনো বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক, সহনশীল এবং কর্মীবান্ধব রাজনীতির একটি নতুন ধারা গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের পক্ষে তাঁরা ভবিষ্যতেও সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান।
নেতারা দাবি করেন, বর্তমান জেলা কমিটির ৮ জন সদস্যসহ যুব, ছাত্র ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী এ পদত্যাগের অংশ হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বরকত আলী বলেন, “আমি শুনেছি কিছু নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন, তবে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। সম্প্রতি গঠিত জেলা যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কমিটি কেন্দ্রীয়ভাবে দেয়া হয়েছে। হয়তো সেই বিষয়ে তাদের কিছু অসন্তোষ ছিল। তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলতে এবং নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থাকতে বলা হয়েছিল।”
ভোরের আকাশ/