দাউদকান্দির ক্ষিরাইনদী এখন শুক্নো খাল

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ক্ষিরাই নদী সেকালের স্রোতঃস্বীনি নদী এখন শুক্নো খালে রুপান্তরিত হয়েছে। আশপাশে ৩টি ইউনিয়ন গোয়ালমারী, পদুয়া ও পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার কৃষক পরিবারের সেচের অভবে ফসল উৎপাদন ব্যহত ও জলবদ্ধতার জন্য জীবন যাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে দারুনভাবে। সরজমিনে দেখা যায়- শুক্নো মৌসুমে এ অঞ্চলে ইরি, বোরো ফসলি জমিগুলোর প্রকৃতি নির্ভর হয়ে পরে। পানির অভাবে খালগুলো শুকিয়ে চৈচির হয়ে যায়। খরার কারনে ও সেচের অভাবে ফসল উৎপাদনে দারুন ব্যাঘাত ঘটে এখানে।
এই ক্ষিরাই নদীটি উৎপত্তি গোয়ালমারী গ্রামের গোমতি নদীর পূর্ব পারে সংযোগ নিয়ে গোয়ালমারী হাটের কোল ঘেষে সরিসৃপের মতো একে বেঁকে দক্ষিন দিকে ছুটে চলেছে। এটি মাঠ প্রান্তরের বুক চিরে চলেছে জামালকান্দি, কামারকান্দি, উত্তর ও দক্ষিন টিলী, তেমনি নিচন্তপুর, নলচক, পাঁচগাছিয়া, গাংকান্দা, জাপরাবাদ, তুলাতলী সহ ভবানিপুর এবং কাউয়াদি গ্রামের পশ্চিম শেষ প্রান্ত ধনাগোদা নদীর মোহনা পর্যন্ত রয়েছে এর বিস্তৃতি। এর সাথে সংযুক্ত অনেক শাখা খালের সংযোগ রয়েছে ক্ষিরাই নদীর সাথে। দীর্ঘদিন খনন না করাতে বর্জ্য ও বর্ষার পলিতে এগুলো দিনে দিনে ভরাট হয়ে যায়। এতে পানিবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন উভয় সংকটে এলাকাবাসী হিমশিম খাচ্ছে রীতিমত। এ ক্ষিরাই নদীটি প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বলে জানা যায়।
সরজমিনে আরো দেখা যায়, এই নদীর শেষ প্রান্ত কাউয়াদি গ্রামের পাশে ধনাগোদা নদীর সংযোগ স্থল থেকে ভবানিপুর, তলাতলী গ্রামের নদীর কিছু কিছু অংশে চরপরে রয়েছে। পায়ে হেটে এপার ওপার পার হওয়া যায়। সেকালে নৌকা যোগে কৃষিপণ্য বেচাকেনার জন্য হাট বাজারে আদান-প্রদান করেছে এই নদী পথে। এ অঞ্চলটি দাউদকান্দির সবচেয়ে নি¤œাঞ্চল বলে জানা যায়। সেকালে কত শত শত পাল তুলে নৌকা যাতায়াত করতো এ পথে। কালের গর্বে সব বিলীন হয়ে পরেছে। প্রতিবছর এলাকাবাসীর হাজার হাজার মন অর্থকরী ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে নদীর পানির অভাবে। সচেতন এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজে একান্ত দাবি ক্ষিরাই নদীসহ শাখা খালগুলো দ্রæত পুনঃ খনন করে কৃষি ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়ার জরুরী প্রয়োজন।
আরো জানা যায়, শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচীকে আরো জোরদার করে ক্ষিরাই নদীকে স্রোতঃস্বীনি করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান পাঁচগাছিয়া ইউপির বিএনপি সভাপতি আলমগীর হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি জহির মুক্তার ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রধান সহ বিশিষ্ট সমাজ সেবকদের মধ্যে পদুয়া ইউপি ও নিচিন্তপুর নুরানি ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাজী ইসমাইল হোসেন প্রধান, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারী আক্কাছ মিয়া, গোয়ালমারী ইউপির বিশিষ্ট সমাজকর্মী তাজুল ইসলাম ওরুপে নাজিম উদ্দিন সরকার ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম বাচ্ছু মিয়ার সুযোগ্য পুত্র শাহিনুর রহমান তরুমিয়া, অত্র গ্রামের রুহুল আমিন শেখ ও ব্যবসায়ী খবির উদ্দিন মোল্লা, জামাল কান্দির ব্যবসায়ী মনির হোসেন, কামাইর কান্দির বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শাহিন, নয়াকান্দি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আবু সালেক, তেমনি উত্তর ও দক্ষিন টিলার পক্ষে রয়েছেন- বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন মিয়া, আঃ বারেক বৈদ্য ও দুলাল ঢালী, জামাল উদ্দিন ও মহিউদ্দিন মিয়া, নলচক গ্রামের রয়েছে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়াজি, হাজী আঃ খালেক প্রধান, হাজী অলি উল্লাহ মিয়া ও বিএনপি নেতা ওয়ার্ড সেক্রেটারী আব্দুল জলিল সরকার সহ হাজী আঃ রাজ্জাক ও হাজী আবুল কাসেম (পীর বাড়ি) ও রুকোনুজ্জামান (পীর বাড়ি), এবং জাফরাবাদ গ্রামের ডাঃ তোফাজ্জল হোসেন, পাঁচগাছিয়ার নান্নু মাস্টার, শ্রীকান্তদি গ্রামের হানিফ মেম্বার, গংকান্দার ইকবাল সরফ নান্নু সরকার এবং নলচক গ্রামের বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা ও আলহাজ্ব আলী আজম মিয়া প্রমূখ।
ভোরের আকাশ/এনউব