শান্তিপূর্ণভাবে গোপালগঞ্জে লকডাউন পালিত

গোপালগঞ্জে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে আওয়ামী লীগের পূর্বঘোষিত ১৩ নভেম্বর লকডাউনের দিনে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলা জুড়ে ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। এরমধ্যে বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাকে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঘুরে দেখা গেছে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। শেষ করে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার কোন বাস ছেড়ে যায়নি তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিকালের দিকে হাতে গোনা কয়েকটি বাস রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলে। গোপালগঞ্জ জেলা শহরের অধিকাংশ দোকানপাট ছিল বন্ধ। লোকজনের সমাগম তেমন চোখে পড়েনি। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
এর আগে, কয়েকটি ধাপে ১০ নভেম্বর থেকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন মসজিদের ইমাম, ইউপি চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এসব আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ যেকোনো গুজব ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দৌড়াদৌড়ি বা গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সব ধরনের আপত্তিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও তারা আশ্বস্ত করেন।
১৩ তারিখে সকাল থেকেই গোটা গোপালগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার ছিল। পুলিশ, আনসার সদস্য ও প্রশাসনের টিম সার্বক্ষণিক টহলে ছিল। জনগণও ছিল শান্ত ও সতর্ক। কোনো বিক্ষোভ, সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।
সচেতনতা ও সক্রিয় প্রশাসনের ভূমিকায় লকডাউন-দিনটি অপ্রত্যাশিত অঘটন ছাড়াই পার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তা জানান, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সক্রিয় ছিলাম এবং থাকবো। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছি।
ভোরের আকাশ/জাআ