ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রবাসী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক কাতারপ্রবাসী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর কেন্দ্র থেকে কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের নাম ফুরকান মিয়া (২৫)। তিনি নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের পূর্বপাড়ার রশিদ মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কেন্দ্রের ভেতরেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফুরকানকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মামাতো ভাই মো. আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, "গত ১৩ আগস্ট রাতে ফুরকানকে মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য প্রয়াস কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা ও বিকেল ৫টায় কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ফুরকান ভালো আছে বলে জানানো হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ইনচার্জ ফোন করে অবস্থা খারাপ জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন।
সদর হাসপাতালে গিয়ে পরে তাদেরকে আবার প্রয়াস কেন্দ্রে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন ফুরকান মারা গেছেন।
তিনি দাবি করেন, ফুরকানের গলা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রয়াস কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ফুরকান বাথরুমে গিয়ে পড়ে যান। পরে তার বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসককে জানিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।
এ ঘটনার পরদিন বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে প্রয়াস কেন্দ্র থেকে চিকিৎসাধীন কিছু রোগী আতঙ্কিত হয়ে বিল্ডিংয়ের জানালা ভেঙে উপর থেকে পাইপ বেয়ে নিচে লাফিয়ে পালিয়ে যান; এর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এসময় মাদক নিরাময় কেন্দ্রটিতে প্রচুর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর কেন্দ্রের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকাবাসী প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোই সরকারি নিয়মনীতির কোনোরকম তোয়াক্কা না করেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোরের আকাশকে জানান, এখানকার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এসে চিকিৎসা নিয়ে ভাল হওয়ার সংখ্যা একেবারেই নগন্য। এগুলো অভিভাবকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া আর টর্চার সেল ছাড়া কিছুই নয়।
সচেতন মহল মনে করেন, সরকারকে এদিকে নজর দেওয়া জরুরী।
ভোরের আকাশ/ইউএম