শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কনকনে শীতে স্থবির উপকূলের জনজীবন, বিপাকে পাথরঘাটার শ্রমজীবী মানুষ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

হাড় কাঁপানো শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় উপজেলা বরগুনার পাথরঘাটার জনজীবন। কয়েক দিন ধরে চলা কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ—বিশেষ করে কৃষক, মৎস্যজীবী ও দিনমজুররা। শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় অনেকেরই জীবিকা কার্যত থমকে গেছে।

পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষি, মৎস্য শিকার ও দৈনিক শ্রমের মাধ্যমে। কিন্তু পৌষ মাসের শুরুতেই তীব্র শীত নেমে আসায় এসব পেশার মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

পদ্মা এলাকার ৬০ বছর বয়সী আব্দুল মতিন মিয়া বলেন, “এই শীত এত তীব্র যে এখন আর কাজ করতে পারছি না। সংসার চালানোও অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এত শীত গত কয়েক বছরের মধ্যে পড়েছে কি না, তা মনে পড়ে না।”

ধান কাটার মৌসুম হলেও কনকনে শীতের কারণে কৃষকেরা মাঠে নামতে পারছেন না।

কৃষক আব্দুস সোবহান মিয়া বলেন, “ভোরবেলা এত ঠান্ডা থাকে যে ঘর থেকেই বের হওয়া যায় না। এই শীতে ধান কাটার কাজ করা খুবই কষ্টকর।”

মৎস্যজীবী ইসমাইল মাঝি বলেন, “নদীতে মাছ ধরতে গেলে শীত অসহনীয় লাগে। জাল ফেললেও তুলতে গেলে হাত-পা কাঁপে। এভাবে শীত থাকলে কয়েক দিন কাজ বন্ধ রাখতে হবে। তখন আয়-রোজগার কীভাবে চলবে, ভাবতেছি।”

শীতের তীব্রতার প্রভাব পড়েছে বাজারঘাটেও। মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। দিনের অনেকটা সময় পার হলেও অনেক দোকান খোলা থাকে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দোকানগুলোতেও ক্রেতাশূন্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রিয়াজ বলেন, “এই শীতে নিজে বাড়ি থেকে বাজারে আসতে পারছি না। দোকান খুললেও ক্রেতা আসে না, কেমনে বেচাকেনা হবে!”

কনকনে শীতের সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই শীতে শরীর আর সহ্য করতে পারছি না। কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। রাতে ঘুমানোও কঠিন হয়ে গেছে।”

এক শিশুর মা সালমা খাতুন বলেন, “আমার শিশুটি কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। রাতে আরও কষ্ট হয়। গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে।”

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ও ছিন্নমূল মানুষরা। খোলা আকাশের নিচে কিংবা রাস্তাঘাটে বসবাস করা এসব মানুষের অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। রাতের তীব্র ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তাঁদের দেখভালের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে স্থানীয়রা জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশেই তাপমাত্রা কমে এসেছে। উপকূলীয় এলাকায় বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী অধ্যুষিত পাথরঘাটার মতো এলাকায় এই কনকনে শীত জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

ভোরের আকাশ/মো.আ.


 

 

বরিশাল

শেয়ার করুন: