সন্ত্রাস ও জলদস্যু মুক্ত চরের দাবিতে কমলনগরের নদীভাঙা মানুষের আকুতি

তীব্র নদীভাঙনে ভিটেমাটি, বাপ-দাদার সম্পত্তি ও সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার নদীভাঙা হাজারো মানুষের চোখে মুখে এখন আবার নতুন করে আশার আলো, একই সঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কমলনগর উপজেলার ১নং কালকিনি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী সাহেবেরহাট ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় একের পর এক ওয়ার্ড নদীগর্ভে তলিয়ে গেলে বসতভিটা হারিয়ে জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিলেন হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে বাধ্য হয়েছিলেন অনত্র।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৬ সালে এসে মেঘনার বুকে আবার জেগে উঠেছে নতুন চর। যে চরে একসময় ছিল তাদের বাপ-দাদার রক্ত-ঘামে অর্জিত পৈতৃক জমি। তবে চর জেগে ওঠার খবর পেয়ে নদীভাঙা প্রকৃত মালিকেরা সেখানে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখতে না দেখতেই তাদের সেই স্বপ্নে আঘাত হেনেছে একদল সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্র।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত জমির মালিকেরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল প্রভাবশালী সন্ত্রাস বাহিনী ও জলদস্যু চক্র ক্ষমতার জোর দেখিয়ে ওই চর দখল এবং অবৈধ কেনাবেচায় মেতে উঠেছে। এমনকি চরের প্রাকৃতিক ঘাস পর্যন্ত কেনাবেচা ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে ছিন্নমূল জীবনযাপন করা নদীভাঙা অসহায় মানুষগুলোর চোখে ধুলো দিয়ে দিনদুপুরে পৈতৃক সম্পত্তি হাতছাড়া হতে দেখে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
নদীভাঙা ভুক্তভোগী মানুষের একটাই দাবি— "যে নদীর ভাঙনে আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি, সেই নদীর বুকে জেগে ওঠা আমাদের বাপ-দাদার জমি আমাদেরই ফেরাতে হবে। কোন জলদস্যু বা সন্ত্রাস বাহিনীকে আমাদের রক্তে ভেজা জমি কেনাবেচা বা দখল করতে দেব না।"
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জেগে ওঠা চর উদ্ধার করতে এবং সন্ত্রাসী-জলদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ভোরের আকাশ/ ইউএম