চার বছর আগে মৃত কিশোরের নামে বিস্ফোরক মামলা

রাজশাহী মহানগরীতে দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলাকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে,চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করা এক কিশোরকে সাম্প্রতিক বাস শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় পুনর্দখলে ককটেল বিস্ফোরণ,অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি আইন প্রয়োগ ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা গেছে গত ২৪ এপ্রিল বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলা নম্বর ৩২-এ রাজশাহীর সিরোইল বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়। মামলার বাদী সুলতানাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাজাহান আলী।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সানি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান এবং ঘটনাস্থলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, অভিযুক্ত সানি চার বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তার মৃত্যুর সে-সময় আলোচিত হওয়ায় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন দুই বছর আগে মৃত ব্যক্তি কিভাবে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় জড়িত থাকেন? আরও বিস্ময়ের বিষয়, মামলার বাদী দাবি করেছেন, তিনি নাকি সানিকে ঘটনাস্থলে ধাওয়া করতেও দেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমানকে একাধিকবার ফোনে দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এবিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন,মামলায় একজন মৃত মানুষ নাম দেওয়া অন্যায় হয়েছে। ভুল তথ্য দিয়ে করা মামলা পুলিশ তদন্ত ছাড়া নিয়েছেন।
এছাড়াও সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ভোরের আকাশ/নি