ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শম্ভুগঞ্জ লালকুঠি দরবার শরীফে পবিত্র ফাতেহা শরীফ উদযাপন

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি পাক দরবার শরীফে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে পবিত্র ফাতেহা শরীফ উদযাপিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ৩০ আশ্বিন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।
খাজা সাইফুদ্দিন নকশবন্দী মুজাদ্দেদী (এনায়েতপুরী) ও খাজা ওলী হুজুর পাকের স্মৃতিবিজড়িত এ দরবার শরীফে বর্তমান গদীনশীন পীর হযরত খাজা সুজাউদ্দৌলা (মাঃ জিঃ আঃ)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র ফাতেহা শরীফ উপলক্ষে দরবার প্রাঙ্গণে নিশান উত্তোলন, খতমে কোরআন, জিকির-আজকার, মিলাদ-কিয়াম ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী হামদ-নাত ও আধ্যাত্মিক গজলের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে দরবার প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে ভক্তরা আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম সূফিবাদ, ইসলামের মূল শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, লালকুঠি দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবসেবা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। বর্তমান গদীনশীন পীর হযরত খাজা সুজাউদ্দৌলার পরিচালনায় দরবারের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা হলো শান্তি, সম্প্রীতি, মানবপ্রেম ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পবিত্র ফাতেহা শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও আশেকানরা দরবার শরীফে সমবেত হন। তাঁদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে।
ফজরের নামাজের পর বর্তমান গদীনশীন পীর হযরত খাজা সুজাউদ্দৌলা (মাঃ জিঃ আঃ)-এর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। মোনাজাতে দেশ, জাতি, সমাজ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে সমবেত ভক্ত ও আশেকানদের মধ্যে দরবার শরীফের ঐতিহ্যবাহী তবারক বিতরণ করা হয়।
ভোরের আকাশ/এনএস