বোয়ালিয়া খালের পাড়ে বর্জ্যের স্তূপ, দূষিত পানিতেই ধোয়া হচ্ছে মাংস

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার দরবেশহাট-রাবারড্যাম সড়কের বোয়ালিয়া খালের পাড় এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আশপাশের লোকালয়ের যত্রতত্র ফেলা
বর্জ্যের কারণে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের দমবন্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের
জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালিয়া খালের পাড়েই গড়ে উঠেছে দুটি অবৈধ কসাইখানা। প্রতিদিন এখানে একাধিক গরু জবাই করে মাংস আমিরাবাদ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। নিয়মনীতির
তোয়াক্কা না করে জবাই করা পশুর রক্ত ও নাড়িভুঁড়ির সমস্ত বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে খালের পানিতে। এতে খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং
চারপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, কসাইরা খালের এই দূষিত ও নোংরা পানি দিয়েই জবাই করা পশুর মাংস পরিষ্কার করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগজনক।
নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ হোসেন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে এখন আর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাওয়া যায় না। ময়লার বিশ্রি দুর্গন্ধ আর কসাইখানার বর্জ্যের কারণে দম বন্ধ
হয়ে আসে। আর সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, খালের এই পচা পানিতেই গরুর মাংস ধুয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।
এই বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান জানান, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা এবং কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালের পানিতে মেশার কারণে পানি ও বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
বিশেষ করে দূষিত ও সংক্রামক জীবাণুযুক্ত পানি দিয়ে মাংস পরিষ্কার করার ফলে সেই মাংসের মাধ্যমে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন মারাত্মক
পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগ ছড়ানোর তীব্র ঝুঁকি থাকে। জনস্বার্থেই এই অবৈধ কসাইখানা ও দূষণ দ্রুত বন্ধ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তারা এই দূষণ বন্ধ এবং অবৈধ কসাইখানা উচ্ছেদে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ
দাবি করেছেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম