শ্রীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে ষাটোর্ধ বিএনপি নেতাকে হত্যা!

গাজীপুরের শ্রীপুরে ষাটোর্ধ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ তোলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে । তাকে দু’দফা পিটিয়ে আহত করে। বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি জয়নাল মোকামী(৭০) ।
অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ইট দিয়ে পুরুষাঙ্গ থেঁতলে দেয়। বর্বরোচিত এ নির্যাতনের পর তাকে উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে রাখে। শিশু নির্যাতনের অভিযোগ তোলে গত ৯ মে শনিবার এমন এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামে । গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৮ ঘন্টা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার সকাল নয়টা চল্লিশ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পারিবারিক দাফন সম্পন্ন হয়। বুধবার দুপুরে নিহতের ছেলে মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার শহিদুল মোল্লাকে প্রধান আসামী করে ১২জন সহ অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
নিহত জয়নাল মোকামী উপজেলার ওই গ্রামের মৃত নইমুদ্দিন মোকামীর ছেলে। তিনি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা থেকে সটকে পরে।
নিহতের স্বজন ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এরা স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদকের সাথে জড়িত।
পার্শবর্তী আনোয়ার শেখ তার সাত বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন মেম্বার শহিদুলের কাছে। শহিদুল ও তার সহযোগীরা জয়নালকে ফাওগান বাজার থেকে ফাওগান উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যান। এ সময় অভিযুক্তরা মেম্বারের সামনে জয়নালকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। প্রান বাঁচাতে জয়নাল দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জয়নালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। লুটে নেয় একটি মোটর সাইকেল, নগদ ৭৫ হাজার টাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার। হামলা কারীরা জয়নালকে বাড়ির বাহিরে নিয়ে উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এসময় ইট দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ থেঁতলে রাস্তায় ফেলে রাখে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাকে রক্ষা করেতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায়ে ফাওগান বাজার থেকে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১মে) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতের ছেলে বিল্লাল অভিযোগ করে বলেন,স্থানীয় ইউপির মেম্বার শহিদুল, নাইম, আনোয়ার, হানিফা সহ অভিযুক্তরা মিথ্যা শিশু ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মামলা বাদী মনির হোসেন জানান, ১৫ থেকে ২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও প্রান বাঁচাতে পারেনি।এরকম লোমহর্ষক ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।আমার বাবা ৭০ বছরের একজন অক্ষম মানুষ।ঠিকমতো চলতেও পারে না।
ফাওগান বাজার কমিটির সভাপতি আব্বাস মোড়ল জানান,সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের সাজানো অভিযোগ তোলা হয় জয়নালের বিরুদ্ধে। নির্যাতন চালিয়ে তার পুরুষাঙ্গ থেঁতলে দেয়া হয়। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শ্রীপুর থানা ওসি নাসির আহমেদ জানান,ঘটনার পর পর ভিকটিমকে গাজীপুরে শহীদতাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়।এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব