শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের জুলাই শহীদ পরিবার দুই বছরেও শুকায়নি স্বজন হারানোর ক্ষত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দুই বছর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোয় রাজপথে ঝরেছিল অসংখ্য তরুণের রক্ত। 

সেই আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও শহীদ পরিবারের জীবন থেকে মুছে যায়নি শোকের ছাপ।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা, সম্মাননা ও নানা কর্মসূচি পালিত হলেও কুড়িগ্রামের শহীদ পরিবারগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন। কোথাও একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে থমকে গেছে সংসার, কোথাও ছোট্ট সন্তান বাবার মুখ না দেখেই বড় হচ্ছে, আবার কোথাও বৃদ্ধ মা-বাবা এখনো অপেক্ষা করেন দরজায় কড়া নাড়ার শব্দের। 

আন্দোলনের পর বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা মিললেও অধিকাংশ পরিবারের মতে, তা সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে; দীর্ঘমেয়াদি জীবনের নিরাপত্তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে তাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের পরিবারগুলোর জীবনেও মর্যাদা ও নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে দেয়।

সংসারের হাল ধরতে গিয়ে প্রাণ হারানো গোলাম রব্বানী নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের গোলাম রব্বানীর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব ছিল একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো।

পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে বাবার হাতে সংসারের খরচ তুলে দিতেন। নিজের স্বপ্নের চেয়ে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার স্বপ্নকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজ করছিলেন রব্বানী। ১৯ জুলাই কাজ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। পরদিন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, "ছেলেটা সংসারের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল। ওর বয়স কম ছিল, কিন্তু দায়িত্ববোধ ছিল অনেক বড়। আজও মনে হয় দরজা খুলে ঘরে ঢুকবে।" রব্বানীর মৃত্যু একটি দরিদ্র পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে থেমে গেছে ছোট ভাইকে মানুষ করার তার স্বপ্নও।

বিচার চান রাশেদুল ইসলামের মা ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন নাগেশ্বরীর রাশেদুল ইসলাম। সেদিন পুলিশের গুলিতে মাথা, গলা ও পিঠে আহত হয়ে তিনি মারা যান। দুই বছর পরও তার কবরের পাশে দাঁড়ালে শোকে ভেঙে পড়েন মা আলেয়া বেগম। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে। আমি শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।" রাশেদুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ছিলেন সবার ভরসার জায়গা। তার মৃত্যু শুধু একজন ছেলেকে হারানোর বেদনা নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।  

রায়হানের স্ত্রী ভিক্ষা নয়, চান কর্মসংস্থান উলিপুর পৌরসভার মুন্সিপাড়া গ্রামের আবু রায়হানুল ইসলাম রায়হান ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ১৯ জুলাই ঢাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী রিফাত জাহান রিতুর কাঁধে এসে পড়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব। ছোট্ট মেয়ে রাওজাকে নিয়ে এখন তাকে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। 

রিতু বলেন, "আমি কোনো অনুগ্রহ চাই না। আমি চাই সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে। একটি স্থায়ী চাকরি পেলে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে পারব।"

নুর আলমের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের নুর আলম ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রি। ২০ জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গাজীপুরে মারা যান। তখন তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর পর জন্ম নেয় ছেলে আব্দুল খালেক, যে বাবাকে কখনো দেখেনি। 

খাদিজা বলেন, "আমার সব চিন্তা এখন ছেলেকে নিয়ে। ও যেন বাবার অভাব বুঝে বড় না হয়, সেটাই চাই। কিন্তু একা সেই দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন।" নুর আলমের পরিবার মনে করে, শহীদ পরিবারের শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় শিক্ষাবৃত্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অন্তত তাদের ভবিষ্যৎ কিছুটা নিরাপদ হবে।

গর্ব আছে, তবু শেষ হয়নি তাহিরের পিতার অপেক্ষা রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ আল তাহির ছিলেন ঢাকা সিরামিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ১৯ জুলাই রংপুরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত হলেও তার আত্মত্যাগ নিয়ে গর্ব লুকান না বাবা ডা. আব্দুর রহমান। 

তিনি বলেন, "দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমার ছেলে প্রাণ দিয়েছে। এই গর্ব আমাদের থাকবে। কিন্তু বিচার না হলে সেই আত্মত্যাগ পূর্ণতা পাবে না।" তাহিরের পরিবারের মতে, শহীদদের স্মরণে আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে তখনই, যখন বিচার সম্পন্ন হবে এবং পরিবারগুলো ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাবে।

রাজিবের বাবার দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমর গ্রামের মেধাবী স্কাউটার রাজিব উল করিম সরকার রাব্বীকে নিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল অনেক। বাবার চাকরির সুবাদে লালমনিরহাটে বেড়ে ওঠা রাজিব পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটিং ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় লালমনিরহাটের মিশন মোড়ে যাওয়ার পর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। গভীর রাতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খানের বাসা থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই বছর পরও ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে পরিবারের। 

রাজিবের বাবা বলেন, "আমার ছেলে কাউকে ক্ষতি করতে যায়নি। বন্ধুদের খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কীভাবে আগুন লাগল, কারা দায়ী, সেটা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করা হোক।" তার মতে, বিচারহীনতা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতই গভীর করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। তাই তিনি আবেগ নয়, আইনের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান।

একমাত্র সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব রুশোর পরিবার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য জিয়াউর রহমান ও রশিদা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে রাদীফ হোসেন রুশো। লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে ঘিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল সীমাহীন। তারা চেয়েছিলেন, ছেলে উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু ৫ আগস্ট লালমনিরহাটে অগ্নিদগ্ধ হয়ে উদ্ধার হওয়া ছয়টি মরদেহের একটি ছিল রুশোর। 

মা রশিদা বেগম বলেন, "আমাদের আর কোনো সন্তান নেই। এখনও মনে হয়, রুশো দরজা খুলে আমাকে 'মা' বলে ডাকবে।" একমাত্র সন্তান হারানোর পর তাদের জীবন এখন নিঃসঙ্গতায় ভরা। পরিবারের ভাষায়, আর্থিক সহায়তা কিছুটা প্রয়োজন মেটাতে পারে, কিন্তু একজন সন্তানের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। তারা শুধু চান, রুশোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

রিকশাচালক রফিকুলের মৃত্যুর পর থমকে গেছে সংসার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়ার রফিকুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে সাভারে রিকশা চালাতেন। শৈশবেই বাবাকে হারিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিজয় মিছিল দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রফিকুলের মৃত্যুর পর পরিবারটি সবচেয়ে বড় যে সংকটে পড়েছে, তা হলো নিয়মিত আয়ের উৎস হারানো। 

মা রওশন আরা বলেন, "ছেলেটা কষ্ট করে সংসার চালাত। ও চলে যাওয়ার পর সবকিছু যেন থেমে গেছে।" ছোট ভাই রমজান আলীর মতে, শহীদ পরিবারের জন্য শুধু সম্মাননা নয়, টিকে থাকার মতো স্থায়ী সহায়তাও প্রয়োজন। কারণ সংসারের চাকা প্রতিদিনই ঘুরতে হয়।

আশিকের মৃত্যুর ক্ষত আজও শুকায়নি উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রামের আশিকুর রহমান আশিক ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছে এই সময়টা যেন শেষই হয়নি। 

বাবা চাঁদ মিয়া বলেন, "মানুষ বলে সময় সব কষ্ট কমিয়ে দেয়। কিন্তু সন্তানের মৃত্যু কোনো দিন পুরোনো হয় না। প্রতিদিনই মনে হয়, সে এখনো আমাদের মাঝেই আছে।" আশিকের পরিবারের মতে, শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের পরিবারের খোঁজ রাখাও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

সহায়তা নয়, প্রয়োজন স্থায়ী পুনর্বাসনবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রামের সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন, জেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নয়জন শহীদ হয়েছেন। পরিবারগুলো বিভিন্ন সময় কিছু আর্থিক  সহায়তা পেলেও অধিকাংশের জীবন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে। 

তার মতে, শহীদ পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের কর্মসংস্থান, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও একই মত প্রকাশ করেছেন। 

তাদের ভাষায়, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখাতে হলে পরিবারগুলোকে সহানুভূতির নয়, অধিকারভিত্তিক সহায়তার আওতায় আনতে হবে। কারণ একজন শহীদের আত্মত্যাগ শুধু একটি পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও দায় সৃষ্টি করে।

প্রতীক্ষা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দুই বছর আগে জুলাইয়ের রাজপথে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্থান পেলেও স্বজনদের জীবন এখনো সংগ্রামে ভরা। কেউ বিচার চাইছেন, কেউ সন্তানকে মানুষ করার নিশ্চয়তা, কেউ আবার একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় আছেন। এই ভিন্ন ভিন্ন চাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—রাষ্ট্র যেন দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করে।

কুড়িগ্রামের শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণসভা, ফুলেল শ্রদ্ধা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শহীদদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব, বিধবা স্ত্রীদের কর্মসংস্থান, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। 

আরও পড়ুন

১ বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

দুই বছর পরও কুড়িগ্রামের শহীদ পরিবারগুলোর চোখে একই অপেক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা এবং এমন একটি রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র তাদের স্বজনদের রক্তের ঋণ শুধু স্মরণে নয়, দায়িত্ব পালনেও স্বীকার করবে।

ভোরের আকাশ/রই 



 

মো. আব্দুল আজিজ নাহিদ

শেয়ার করুন: