সিরাজদিখানের ৮০ কোটি টাকার নান্দনিক স্টেশনে থামে না কোনো ট্রেন

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ উদ্বোধনের ২ বছর পার হলেও সিরাজদিখানের নিমতলা রেল স্টেশনে থামছে না কোনো ট্রেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কেন অবহেলার শিকার হচ্ছেন এখন সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সিরাজদিখানবাসীর মনে। দ্রুত নিমতলা রেল স্টেশনে ট্রেন থামানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।
উন্নত অবকাঠামো, দৃষ্টিনন্দন ভবন এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন সুবিধাসহ সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের নিমতলা এলাকায় নির্মাণ করা হয় নান্দনিক একটি রেলস্টেশন। যার খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে ২০২৩ সালে ১০ অক্টোবর পদ্মা রেল সেতু উদ্বোধন হয়। উপজেলাটির ওপর দিয়ে ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বেনাপোল ও ঢাকা-রাজশাহীগামী রেল যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন রুপসী, নকশি কাথা, জাহানাবাদ, মধুমতী, বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস নামে ছয় জোড়া আন্তনগরসহ একাধিক ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। এই স্টেশনে বর্তমানে মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ২ জন স্টেশনমাস্টার, পিয়ন ও গার্ড রয়েছেন ৬ জন। এ ছাড়া সিগন্যাল বিভাগে ১ জন এবং প্রকৌশল বিভাগে ৪ জন কর্মরত রয়েছেন।
এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এই স্টেশনে অন্তত কয়েকটি আন্তনগর ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা হোক। তাদের মতে, যাত্রাবিরতি চালু হলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ সহজে ও স্বল্প খরচে যাতায়তের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আশি কোটি টাকার স্টেশনটিতে রয়েছে কেবল সুনসান নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া আর কেউ থাকে না।
উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ওহাব শেখ বলেন,‘নিমতলা রেলওয়ে স্টেশনটি দেখতে খুবই সুন্দর ও চমৎকার কিন্তু স্টেশনটি নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি হয়নি। তাই রেল যোগাযোগের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না এই অঞ্চলের জনসাধারণ।’
উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ফুলহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান রাসেল বলেন, কোটি টাকা ব্যয়ে এত সুন্দর একটি রেলস্টেশন নির্মাণ হলেও, তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আমাদের দাবি, শিগগির এই স্টেশন কার্যকর করা হোক।’
নিমতলা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গয়েশ্বর মল্লিক বলেন, ‘এখানে বর্তমানে ছয় জোড়া ট্রেন চলাচল করে । অনেক বড় স্টেশন হওয়া সত্বেও এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বলতে পারবে।’
পদ্মা ব্রিজরেল লিংক প্রজেক্ট প্রকৌশলী মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, নিমতলা রেলস্টেশনটি নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। সাধারণ যাত্রী স্টেশনের চেয়েও নিমতলাকে মূলত রেলওয়ের একটি বৃহৎ কন্টেইনার টার্মিনাল বা বাণিজ্যিক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য পাশে প্রায় ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নিমতলা রেলস্টেশন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যতের একটা পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই এখানে ৩২ কন্টেইন বিশিষ্ট দুটি ট্রেন এখানে পন্য খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, ‘নিমতলা রেলস্টেশনে কোনো আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। যাত্রীদের সুবিধার্থে এখানে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি । আশা করি, শিগগির যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’
ভোরের আকাশ/ইউএম