লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার
পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৬) এবং বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার বাসযোগে জয়পুরহাটে পাঠান। সকাল আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে বাসটি থামান। পরে বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। তাঁকে আহত অবস্থায় শিবগঞ্জের গুজিয়া হাটের মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় খায়রুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের একটি দল পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএমের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু করে। এসআই মো. জাহাঙ্গীর করিব ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে দলটি পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, প্রথমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরীনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আলমগীরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সাদিকুল ও আলমগীরের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকায় সাদিকুলের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা বিচারাধীন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব