সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ২০ জেলে অপহরণ

সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে গত দুই দিনে ৪৬ জন জেলেকে অপহরণ করার খবর পাওয়া গেছে। বনবিভাগ এখন পর্যন্ত ২০ জেলেকে অপহরণের বিষয় নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় আটটি ট্রলারে হামলা চালিয়ে প্রথম আটজন জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। এর পরদিন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনভর পৃথক তিনটি স্থান থেকে আরও ২৬ জনকে এবং মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দুবলার শুঁটকি পল্লী এলাকা থেকে আরও ১০ জন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী’ ও ‘করিম শরীফ বাহিনী’ এই অপহরণের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অপহৃত জেলেদের পরিবারের কাছে ফোন করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে অনেকে বিষয়টি গোপন রেখে মুক্তিপণ দিয়ে স্বজনদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট কোস্টগার্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। জেলেদের উদ্ধার করতে পারলে তখন বলা সম্ভব হবে, আসলে কতজন জেলে জিম্মি রয়েছে। তবে মিডিয়ার মুখপাত্র ব্যতিত আমরা এখন কিছুই বলতে পারব না।
এদিকে বনবিভাগের সূত্র বলছে, অপহরণ হওয়া জেলেরা হলেন- হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাদের বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে বলে পরিবারের মাধ্যমে জানা যায়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ৪০ জনের বিষয়টি শুনেছি। তবে নিশ্চিত না। তবে ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহযোগিতার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ভোরের আকাশ/ র.ই