লোহাগাড়ায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণে দ্রুত গতি, স্বস্তিতে এলাকাবাসী

দুর্ঘটনাপ্রবণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশ প্রশস্তকরণে গতি এসেছে। তিনটি প্যাকেজে চলমান এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটি ২১ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজও চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
গত ৭ মে চুনতি গ্রিন ভিউ নার্সারি এলাকায় দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজের উদ্বোধন করা হয়। রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি গ্রিন ভিউ নার্সারি পর্যন্ত সাত কিলোমিটার অংশ প্রশস্ত করতে এ প্যাকেজে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলছে। দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এবং তৃতীয় প্যাকেজে চুনতি মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্যাকেজে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। দ্বিতীয় প্যাকেজে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন। তৃতীয় প্যাকেজে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দে ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এই প্যাকেজের আওতায় চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক মাঝখানে ডিভাইডার রেখে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল আলম জানান, বর্তমানে মহাসড়কটির প্রস্থ ২১ ফুট। সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে উভয় পাশে ছয় থেকে সাত ফুট করে সড়ক বাড়ানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এর আগে যানবাহন চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের দোহাজারী নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, জাঙ্গালিয়া এলাকায় অতীতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর মহাসড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়ক এন-১-এর ব্যস্ত এই অংশে যান চলাচল নিরাপদ করতে প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কাজের মেয়াদ আগামী মে পর্যন্ত থাকলেও এপ্রিলের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজের মান নিয়ে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামানত রাখা হবে এবং কাজের কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা পুনরায় ঠিক করে দিতে হবে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক অমিত জানান, কেরানীহাট থেকে আমিরাবাদ-রাজঘাটা পর্যন্ত প্রথম প্যাকেজের কাজ তাঁদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজটি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ পরিদর্শন ও তদারকি করছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও চার লেনের কাজ এগিয়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি প্রশস্ত করা ছিল এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি। কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লোহাগাড়া শাখার আহ্বায়ক মুজাহিদ হোসাইন সাগর বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি দুর্ঘটনার কারণে আলোচনায় ছিল। প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীসহ সড়ক ব্যবহারকারীরা এর সুফল পাবেন বলে আশা করেন তিনি।
মহাসড়কটির কাজ কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সড়কটির সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে চুনতি জাঙ্গালিয়া অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রশস্তকরণের কাজও দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সড়কটির দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা