পরিবেশ বিপর্যয় রোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ এবং হযরত শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু সচেতনতা ও আধ্যাত্মিক দর্শনকে কেন্দ্র করে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর যৌথ উদ্যোগে বিভাগের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী ‘গ্রাজুয়েট সিম্পোজিয়াম অন ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশ, জলবায়ু এবং সুফিবাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) ও রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম।
সভাপতিত্ব করেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী এবং ডিরির ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী।
সিম্পোজিয়ামের কনভেনারের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার এবং কো-কনভেনার ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক দর্শনকে যুক্ত করার উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণাই নয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশও সমানভাবে জরুরি।
নিজের দীর্ঘ গবেষণা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও জিআইএস নিয়ে কাজ করলেও একটি বিষয় তাঁকে ভাবায় পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সহজে সচেতন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মন্তব্য করেন, অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিবেশগত ঝুঁকিকে গুরুত্ব দেন না।
শিক্ষার্থীদের পোস্টার উপস্থাপনা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানবজাতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এ সংকটে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন উজাড় ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকে তিনি এ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার। ডিরির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সদস্য সচিব ড. কাজী সাইফুল আচফিয়া। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. অলক পাল, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ, অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. রায়হান সরকার, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ শের মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী এবং সহকারী অধ্যাপক মুনমুন নেছা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. তাজ সুলতানা ও প্রভাষক মোহাম্মদ আলী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পোস্টার প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। ‘পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন’ এবং ‘সুফিবাদ, পরিবেশবিদ্যা ও সবুজ ভবিষ্যৎ’ এই দুইটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পোস্টারগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশগত নৈতিকতা এবং ইকো-সুফিবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা তিনটি পোস্টারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি সিম্পোজিয়ামে উপস্থাপিত গবেষণা ও আলোচনার সারসংক্ষেপ নিয়ে একটি প্রসিডিংসও প্রকাশ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই