ফতুল্লায় পাইলিং মেশিনের পাইপ ভেঙে পড়ে শিশুর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাইলিং মেশিনের লোহার পাইপ ভেঙে পড়ে ইয়াসিন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর বুড়ির দোকান তাকওয়া মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণ কাজ চলছিল, যার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বাড়ির মালিকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত শিশু মুনতাসির ইসলাম হামজা ওরফে ইয়াসিন (৫) ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে। কাজের সুবিধার্থে তার বাবা কুমিল্লায় থাকলেও পরিবারের সদস্যরা দক্ষিণ সস্তাপুর বুড়ির দোকান এলাকায় ডা. মুজিবুলের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সেখানে থাকতেন শিশুটির মা।
স্থানীয়রা জানান, নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং কাজ চলাকালে মেশিনের একটি লোহার পাইপ হঠাৎ ভেঙে শিশুটির ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াসিন পাশের একটি দোকানে রুটি কিনতে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাইলিং মেশিনের পাইপ ভেঙে তার ওপর পড়ে।
নিহত শিশুর বাবা মো. রুবেল বলেন, “সকালে আমার বড় ছেলে ফোন দিয়ে জানায় আমার ভাই নেই। খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে দ্রুত চলে এসেছি। টাকা গেলে আবার পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষ তো আর ফিরে পাওয়া যায় না। আমার ছেলে আমার কাছে রাজপুত্রের মতো ছিল। আমি এ ঘটনার আইনগত বিচার চাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিং কাজের সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্মাণাধীন জায়গার মালিক মিজান এবং ঠিকাদার বাবুল বলে জানা গেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা উজ্জ্বল ও সম্রাটকে দেখা যায়। তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে মসজিদে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার বিষয়টি তার জানা নেই।
ভোরের আকাশ/এনএস