শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের ৮০ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প ঝুঁকিতে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বড় বড় ফল্ট আছে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন, ভারত, নেপালের অবস্থান ওই তিন ফল্ট লাইনের আশেপাশে। এর মধ্যে বিল্ডিং কোড ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এতে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। তাই এমন বড় মাত্রার ভূমিকম্পে নগরীর অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ছয় শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ভূমিকম্পের পরই সামনে আরও বড় ভূমিকম্পের সতর্কবাণী দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তবে গতকালের ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ এবং সচেতন নগরবাসী এ তিনটি উপাদানই চট্টগ্রামকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্য মতে, চট্টগ্রাম নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একতলা ভবন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫টি। ২ থেকে ৫ তলার ভবন ৯০ হাজার ৪৪৪টি। ৬ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৩৫। ১০ তলার ওপরে ভবন রয়েছে ৫২৭টি। ২০ তলার বেশি ভবন রয়েছে ১০টি। তবে অধিকাংশ ভবনই ইমারত বিধিমালা মানেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রায় সব ভবনই ঝুঁকিতে রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ৬ দশমিক ৯৯ মাত্রার ভূমিকম্পে নগরীতে ১২টি ভবন হেলে পড়েছিল। এর আগে ১৯৯৭ সালের ২১ নভেম্বর ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম নগরে পাঁচতলা ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। গত ৪ বছরে দেশের অভ্যন্তরে ৩৭ বার ভূমিকম্প হলেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু শুক্রবারের ভূমিকম্প রাজধানী ও চট্টগ্রামে শঙ্কা বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামের অধিকাংশ ভবনে ভূমিকম্প প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই সিডিএর তদারকি। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বেশির ভাগ ভবন ধসে পড়বে। এতে প্রচুর মানুষ হতাহতের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন, সিডিএ’র ভূমিকম্প নিয়ে তেমন প্রস্তুতি নেই। উদ্ধার তৎপরতার যন্ত্রপাতিও অপ্রতুল।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম উচ্চ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মালিক আইন ও বিধিমালা মানেনি। এসব তদারকি নেই সিডিও।’র। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের বেশিরভাগ ভবনের বয়স ৫০ থেকে ১০০ বছর হয়েছে। এগুলোর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবনগুলোও ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা ছাড়া নির্মাণ হচ্ছে। কাজেই বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে দুই থেকে তিন লাখ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৬-৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে। এজন্য এখন থেকে আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।’

ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় যেভাবে
মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল নামেও ভূমিকম্প পরিমাপ করার একটি স্কেল আছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র হিসেবে পরিচিত রিখটার স্কেলকে প্রতিস্থাপন করেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা বোঝাতে যে সংখ্যাটি দেওয়া হয়, তা দিয়ে ফল্ট লাইন কতটুকু সরেছে এবং যে গতি এই সরানোর পেছনে কাজ করেছে, সেটি নির্দেশ করে।

কোন মাত্রার ঝুঁকি, কত
৩.০ এর কম মাত্রা : খুব দুর্বল, সাধারণত মানুষ অনুভব করতে পারে না, শুধু যন্ত্রে ধরা পড়ে। ঝুঁকি নেই।
৩.০ থেকে ৩.৯ মাত্রা : মৃদু কম্পন অনেকেই অনুভব করতে পারেন, তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
৪.০ থেকে ৪.৯ মাত্রা : হালকা কম্পন ঘরের জিনিসপত্র বা জানালা কেঁপে উঠতে পারে। দুর্বল বা পুরোনো ভবনে সামান্য ফাটল দেখা দিতে পারে। ঝুঁকি কম।
৫.০ থেকে ৫.৯ মাত্রা : মাঝারি কম্পন। এটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প। শক্তিশালী ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। দুর্বল ভবনের দেয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ব্যস্ত এলাকায় ক্ষতি বাড়তে পারে।
৬.০ থেকে ৬.৯ মাত্রা : শক্তিশালী কম্পন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কিছু ভবন ধসে পড়তে পারে।
৭.০ থেকে ৭.৯ মাত্রা : খুব শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক। ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভবন, সেতু, রাস্তাঘাট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাণহানির শঙ্কা খুব বেশি।
৮.০ বা তার বেশি মাত্রা : মহা ধ্বংসাত্মক। এটি ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে এবং সুনামি হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

 

 

 

ভবনঝুঁকিপূর্ণভূমিকম্পচট্টগ্রাম

শেয়ার করুন: