শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া মই বেয়ে দেওয়াল টপকে যাতায়াত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

বসতবাড়ির চারপাশে শিল্প মালিকের কাঁটাতারের বেড়া। বসতভিটা ছাড়তে সব ধরনের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে শিল্প মালিকের নিয়োগপ্রাপ্তরা। শুধুমাত্র চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে থামেনি। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইন।

শিল্প মালিকের নিয়োগপ্রাপ্ত লোকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বহুদূর থেকে পানি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ বিহীন ছেলেকে নিয়ে মানবেতর দিনপাত করছে বিধবা শামসুন্নাহার। হঠাৎ করে হামলা ইটপাটকেল ছুঁড়ে আহত করা এরা এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। তবুও স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা আঁকড়ে ধরে বহুরাত নির্ঘুম কাটছে তার। গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম এসে বাসা বাঁধে চোখে। চোখে পানি ছিটিয়ে নির্ঘুম রাত কাটান তিনি। প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে নালিশ করেও প্রতিকার পায়নি। কখন জানি প্রভাবশালীর বুলডোজারের আঘাতে বসতবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিবে এমন হুমকি পেয়ে দীর্ঘ দুবছর পার করছেন তিনি। মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। তাতেও সমাধান না পেলে আত্নহত্যা একমাত্র পথ।

দীর্ঘ দুইবছর  যাবৎ বসতবাড়িতে অবরুদ্ধ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ শামসুন্নাহার বেগম কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন। তার স্বামী আমিরুল ইসলাম পাঁচবছর পূর্বে মারা গেছে। ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপুকে নিয়ে তার জীবন-সংসার।

ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার বেগম বলেন, দীর্ঘ দুইবছর যাবৎ আমি ঘরবন্দী। বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া। মই বেয়ে দেওয়াল টপকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছি। বসতবাড়ির চারপাশে ঘণ কাঠ বাঁশ কাঁটাতারের বেড়া। এক ইঞ্চি জায়গা নেই বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার। দীর্ঘ দুবছর একটি রাতও ঘুমাতে পারিনা। স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদা বসতবাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে। না গেলে রাতে নাকি বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিবে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই দুবছর। কেমন করে চলছি। এটা আর কত বলবো? কাকে বলবো? প্রশাসনের ছোট বাবু থেকে শুরু করে বড় চেয়ারে বসা স্যারের কাছে নালিশ করছি। কিন্তু কোন প্রতিকার মিলছে না। কেন আমি কি বাংলাদেশের মানুষ না? আমার চলাচলের রাস্তা বন্ধ? বিদ্যুৎ সংযোগ নেই? পানি নেই। আমরা গরীব বলে আমাদের এই অধিকার নেই? তিনি আরও জানান, এক কেজি চাল ক্রয় করে ওয়াল টপকে নিয়ে যেতে হয়। গবাদিপশু পাখি বাধ্য হয়ে বিক্রি করছি। গভীর রাত নেমে এলে চোখে ঘুম এসে বাসা বাঁধে। তখন চোখ পানি দিয়ে ধুয়ে জেগে থাকি। হাঁটাহাঁটি করে রাত পার হয়। বাহিরে কোন কিছুর শব্দ হলে বুকটা কেঁপে ওঠে এই বুঝি বুলডোজার আসছে বসতবাড়ি ভেঙে দিতে। ডাক চিৎকার করি কেউ সারা দেয়না।  কিন্তু আমার রাত তো শেষ হবার নয়। দিনের পর দিন একটিও দানা পড়েনি। ঘরে চালডাল তেল কিছুই নেই। হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে দিছে। কেঁদে কেঁদে চোখের পানি শেষ করছি। তবুও বিচার পাচ্ছি না। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি তবুও সমাধান মেলেনি।

ভুক্তভোগী নারীর ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপু বলেন, দীর্ঘ দুবছর যাবৎ আমাদের মা ছেলের উপর চলছে নির্যাতন অত্যাচার। কয়েকবার মাকে আমাকে মারা হয়ছে বসতভিটা ছেড়ে চলে যেতে। কিন্তু মা বাবার বসতভিটে ছেড়ে যাবে না। ২০০৫ সালে বাবার কষ্টে উপার্জিত টাকায় সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে। সে জমির দাম আজ কোটি টাকা। তাই প্রভাবশালীদের লোভ। একটি রাতও ঘুমাতে পারিনা আমরা। বহুদিন যাবৎ বিদ্যুৎ নেই। লাইনের তারসহ মিটার নিয়ে গেছে। বসতবাড়ির চারপাশে বেড়া। মই দিয়ে খুবই কষ্টে যাতায়াত করি। মার খুবই কষ্ট হয়। জমি ছেড়ে দিতে প্রতিনিয়ত হুমকি। মফিজ উদ্দিনের ছেলে নূরুল হুদা জানিয়েছে বুলডোজারের মাধ্যমে বসতবাড়ির চিহ্ন রাখবে না। ডিসি এসপিসহ কত জায়গায় অভিযোগ করছি একটু রাস্তা পেতে। কিন্তু কেউ সমাধান করেনি। এগিয়ে আসেনি।

অভিযুক্ত নূরুল হুদা বলেন, চারপাশে মালিকের জমি। তাই বেড়া দেওয়া হয়েছে। মালিক যেভাবে হুকুম করবে আমরা সেভাবে কাজ করি।  

আরও পড়ুন

চাঁদপুরে নদী দখল করে অবৈধ ঘাট নির্মাণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি। সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মারধরের অভিযোগ। তদন্ত চলছে। রাস্তা খোলে দেওয়া প্রশাসনের কাজ। এটা আমাদের বিষয় না।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: