রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেট থেকে ইয়াবাসহ আটক ৩

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টাকালে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিনালা ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটকরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সীমা ইসলাম (২২) এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার শাকিল মৃধার স্ত্রী উর্মি আক্তার ঊষা (১৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কক্সবাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। খবর পেয়ে ডিএনসির একটি দল রামুর রাবার বাগান এলাকায় অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রামমুখী যানবাহনে নজরদারি শুরু করে।
একপর্যায়ে কক্সবাজার থেকে আসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করা হয়।
তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা চালক ও দুই নারী নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার পরিচিত বলে দাবি করেন। তবে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাইয়ে তাদের দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে গাড়ির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও।
ডিএনসির উপপরিচালক সোমেন মন্ডল আরও জানান, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।