সারিয়াকান্দিতে ২৮ মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, রং তুলিতে রঙিন প্রতিমা

মাটির অবয়বে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ। কোথাও চলছে রঙের প্রলেপ, কোথাও সাজসজ্জার শেষ প্রস্তুতি। আর কয়েক দিনের অপেক্ষা, এরপরই ঢাকের শব্দে মুখর হবে পূজামণ্ডপ।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ২৮টি মণ্ডপ ঘিরে যখন দুর্গোৎসবের আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন প্রতিমা তৈরির বাড়তি ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। উপকরণের দাম বাড়লেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদে তাঁদের কাটছে ব্যস্ত সময়।
উপজেলার প্রতিমা তৈরির কর্মশালাগুলোতে এখন দিন-রাত কাজ চলছে। বাঁশ ও খড়ের কাঠামো থেকে মাটির অবয়ব—ধাপে ধাপে পূর্ণতা পাওয়া প্রতিমায় এখন পড়ছে তুলির শেষ আঁচড়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ।
প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত সারিয়াকান্দির মৃৎশিল্পী নয়ন কুমার রাজভর। এবার ছয়টি প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেড় থেকে দুই মাস আগে শুরু করা কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি সময় ও খরচের হিসাবও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।
নয়ন কুমার বলেন, প্রতিমার মূল কাজ প্রায় শেষ, এখন চলছে রং করার পালা। একটি প্রতিমা তৈরিতে সাধারণত চার থেকে পাঁচ দিন লাগে। তবে মাটি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ খরচও বেড়েছে। সময়মতো কাজ শেষ করতে রাতদিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
প্রতিমা তৈরির পেছনে থাকে কয়েক ধাপের শ্রম। বাঁশ-খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি, মাটির প্রলেপ দেওয়া, শুকানো, রং করা এবং অলংকরণের প্রতিটি পর্যায়েই প্রয়োজন যত্ন ও সময়। উপকরণের দাম বাড়লেও কাজের সময়সীমা বাড়ে না। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলে নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা সরবরাহ করাই শিল্পীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনও। সারিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মণ্ডপভিত্তিক পুলিশের দল গঠন করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলও অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। আজান ও নামাজের সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের ক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। মণ্ডপে মণ্ডপে যখন দেবীবরণের আয়োজন, তখন শিল্পীদের প্রত্যাশা—বাড়তি ব্যয়ের চাপ পেরিয়ে সময়মতো প্রতিমা তুলে দিতে পারবেন আয়োজকদের হাতে।
ভোরের আকাশ/ এনউব