রাজধানীর জুরাইনে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। আজ সোমবার (১২ অক্টবোর) বেলা ১০টায় রাজধানীর জুরাইন রেলগেট থেকে জুরাইন বালুর মাঠ বাজার ও আশেপাশের এলাকায় এই অভিযান চলে। এই অভিযানে ঢাকা- মাওয়া সড়কের ওপর গড়ে ওঠা হকারদের অস্থায়ী দোকান, রাস্তার ওপর নির্মিত বর্ধিতাংশ ও সরকারি জায়গায় নির্মিত দোকান ভেঙ্গে ফেলা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর ওয়ারী বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: শরীফুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে প্রধান রাস্তা ও ফুটপাত থেকে কয়েকশ হকারদের অস্থায়ী দোকান ও বাজারের রাস্তার উপর নির্মিত ছাউনিগুলো ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে কয়েকশত হকার বেকার হয়ে পড়েন।
দীর্ঘদিন যাবৎ গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম প্রধান রাস্তার ওপর হকাররা বসায় যানজট লেগেই থাকতো। পথচারীদেরকে চলাচল করতে হতো ঝুঁকি নিয়ে। সাধারণ জনগণ এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও পুনরায় আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যা আমরা দীর্ঘদিন যাবত দেখে আসছি। সেসঙ্গে এসব গরীব হকারদের দিকে খেয়াল রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান অনেকে। অনেক হকার জানান, আমাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার শহীদ বলেন, আমরা গরীব মানুষ, কি করে খাব। দোকানটি ভেঙে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাতে হবে। কিভাবে সংসার চালাবো সেই চিন্তায় আছি।
পোশাক বিক্রেতা জসিম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসতেছি। এখন আমাদের দোকান উচ্ছেদ করায় চরম বিপাকে পরতে হবে। বয়স্ক মা ও পরিবারকে নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পরতে হবে।
এলাকার বাসিন্দা রুবেল বলেন, মেইন রোড ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এরাও তো গরিব মানুষ। এদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাই এদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত।
অনেক হকার অভিযোগ করেন, আমাদেরকে আগে জানানো হয়নি। তাহলে আমাদের মালামাল ও দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হতো না। এ ব্যাপারে অভিযানে থাকা পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর গাজী মুসা বলেন, আমরা তিন দিন যাবত মাইকিং করে হকারদের সরে যেতে বলি। কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেননি। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী শ্যামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, হকাররা যেন পুনরায় বসতে না পারে সেজন্য আমরা নিয়মিত মনিটারিং করব।এ ব্যাপারে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ৬-৭ বার এদেরকে উচ্ছেদ করেছি। এবারের উচ্ছেদ ভিন্ন ধরনের। এদেরকে পুনরায় আর বসতে দেওয়া হবে না। আজকের অভিযানে শুধু হকার উচ্ছেদই হয়নি, সরকারি জমিতে নির্মিত কিছু দোকানও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে এই উচ্ছেদ অভিযান।
ভোরের আকাশ/এনএস