খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের কাজ অসমাপ্ত রেখে বুঝিয়ে দিতে মরিয়া গণপূর্ত

খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য ১১০ কোটি টাকা খরচের পরও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি খুলনা গণপূর্ত-১।
উল্টো দায় এড়াতে কাজ অসমাপ্ত থাকার পরও তা বুঝে নেয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে নির্মাণ কাজে ত্রুটিপূর্ণ, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার, অপরিকল্পিত কাজ বাস্তবায়ন এবং কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই তা বুঝিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গণপূর্ত -১ এর প্রকৌশলীরা পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের অসমাপ্ত কাজ নিজেরা কোন ভাবে দৃশ্যমান সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। হাসপাতাল বুঝে নেয়ার জন্য একাধিকবার চিঠিও দিয়েছে। যা এক ধরনের প্রতারণা। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে এবং নিজেদের দায় এড়াতে এ প্রতারণা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা।
গণপূর্ত সূত্রে জানা যায়, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রসারের জন্য ২০১৭ সালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়। হাসপাতালটি নির্মাণে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ময়ূরী আবাসিক এলাকার বিপরীতে সিটি বাইপাস সড়কের পাশে জমি চূড়ান্ত করে ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন ৫২ কোটি ২ লাখ টাকায় ৪ দশমিক ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করে।
২০০ শয্যার আধুনিক এ হাসপাতাল নির্মাণে প্রথম ধাপে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয় ১১৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু জমি অধিগ্রহনে সময় বেশি ব্যয় হওয়াতে নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে।
আরও জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগ ২০২০ সালে প্রথম পর্যায়ে হাসপাতালের বেজমেন্ট ও একতলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রৈতি এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালের ১৪ মে কার্যাদেশ পায়। ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এ কাজের মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
দ্বিতীয় পর্যায়ে সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের অনুমোদন মেলে। এতে রান্নাঘর, সাবস্টেশন, পাম্পহাউজ, সীমানাপ্রাচীর, রাস্তা, নালা ও গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কাজের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুনে। সব মিলিয়ে ছয়টি প্যাকেজের কাজে মোট প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র শিশু হাসপাতাল নয়, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিসের বাসভবন নির্মান কাজ এবং সরকারি অনেক কাজে এমন গাফিলতি বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম করছেন। বিগত সময়ে তিনি গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের সাথে নিয়ে একাধিক নিম্নমানের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।
অনেক বড় বড় প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কোন জবাবদিহিতার মধ্যে প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম ছিলেন না। এমনকি খুলনা শিশু হাসপাতালের নিম্নমানের ও অপরিকল্পিত কাজকে ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কামরুল ইসলাম।
তবে এ বিষয়ে জানতে খুলনা গণপূর্ত -১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি, এখন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।
ভোরের আকাশ/র ই