বরিশাল-নলছিটি সীমান্তে রেকর্ডভুক্ত জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরজাগুয়া এলাকা এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় রেকর্ডভুক্ত কৃষিজমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিক ও ওয়ারিশদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র পিলার স্থাপন ও লাল পতাকা টাঙিয়ে একাধিক দাগের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাগুয়া মৌজার (জেএল নং-৫৪) ১৮৭১, ১৮৮৯ ও ১৮৯৫ নম্বর দাগসহ আরও কয়েকটি দাগের জমি দীর্ঘদিন ধরে শাহনাজ শরীফ গং, ইউনুস আলী গং, মো. আনিসুর রহমান খান, আবদুল্লাহ আল রিয়াজসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশরা বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহনাজ শরীফ গংয়ের নামে ৬ দশমিক ৯৫ একর এবং ইউনুস আলী গংয়ের নামে ২ দশমিক ৮৮ একর রেকর্ডভুক্ত কৃষিজমি রয়েছে। সম্প্রতি একটি চক্র ওই জমির বিভিন্ন স্থানে পিলার স্থাপন ও লাল পতাকা টাঙিয়ে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তাদের অভিযোগ, গত ১৮ জুন সাইদুল ইসলাম, মঈন মীর, ইলিয়াস খন্দকারসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিতে প্রবেশ করে পিলার স্থাপন ও লাল পতাকা টাঙান। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ইলিয়াস খন্দকার নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। তার চাকরির পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় আরও কিছু রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মীর বলেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো বহু বছর ধরে জমিগুলো ভোগদখল করে আসছে। অপর বাসিন্দা আমীর হোসেনও একই ধরনের বক্তব্য দেন। রমিজ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। মঈন মীর ও ইলিয়াস খন্দকারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ প্রকাশের আগে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেও, এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সেগুলো এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত, দখলচেষ্টা বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/জেআ