বাউফলে আগুনে নিঃস্ব কৃষককে পৌর বিএনপির সভাপতির ১ লাখ টাকা সহায়তা

পটুয়াখালীর বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর, গবাদিপশু ও বোনের বিয়ের জন্য ১২ বছরের জমানো সাত লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া কৃষক মোশাররফ হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দুর্দশার কথা বিবেচনা করে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিষয়টি দলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে প্রতিশ্রুত অর্থ তুলে দেন হুমায়ুন কবির।
এ সময় হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাদের দলের নির্দেশনা রয়েছে, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
সেই নির্দেশনার আলোকে আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মোশাররফের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছি। পাশাপাশি বিষয়টি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করব, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে আরও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া যায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাউফল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় কৃষক মোশাররফ হোসেনের বসতঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে।
এতে বসতঘর, দুটি গরু, তিনটি ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন মোশাররফ হোসেন। ছোট বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে গরু-ছাগল পালন করে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আগুনে সেই সঞ্চয়ও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বসতঘর, গবাদিপশু ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন হুমায়ুন কবির। সে সময় তিনি পরিবারটিকে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মঙ্গলবার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র্হস্তান্তর করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌর বিএনপির সদস্য মজিবর রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহ আজম, পৌর বিএনপির প্রচারবিষয়ক সম্পাদক ইমামুজ্জামান অনিকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের মতে, এই সহায়তা দুর্যোগের মুহূর্তে পরিবারটির কিছুটা উপকারে আসবে। তবে বসতঘর নির্মাণ, গবাদিপশুর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে মোশাররফ হোসেনের পরিবারের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভোরের আকাশ/সু.পা