শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়া

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

সুদানে নিহত শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়ার লাশ গাইবান্ধায় নিজ গ্রামে তাঁর বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামে জানাজার পর তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে দুপুর ২ টার দিকে সেনাবাহিনীর বহনকারী হেলিকপ্টারে শহীদ সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে পৌঁছায়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। জানাজায় অংশ নেন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ। জানাজা শেষে শহীদ সবুজ মিয়াকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

শহীদ সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভবনপুর) গ্রামের মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। ছোটবেলায় বাবাকে হারানো সবুজ পরিবারের হাল ধরেন এবং জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আটজন আহত হন। শহীদ সবুজ মিয়ার বাড়িতে সকাল থেকেই নেমে আসে শোকের ছায়া। কফিনবন্দি মরদেহ হওয়ায় শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ছকিনা বেগম। বারবার ডাকতে থাকেন বাবা সবুজ আমার সবুজ রে, তুই কোথায় গেলি বাবা?

পাশেই স্বামীহারা স্ত্রী নুপুর আক্তারের বুকফাটা আহাজারি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে  তিনি বলেন, 'স্বামী ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচবো জানি না। আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী আর সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।'

রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন মো. আলভী জানান, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ সবুজ মিয়ার জানাজা ও দাফন সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বাবা হাবিবুর রহমানকে হারান নিহত সবুজ মিয়া। এরপর ২০১০ সালে সেনাবাহিনীতে অসামরিক ধোপি হিসেবে যোগ দেন, পরে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ মার্চ বিয়ে করেন নুপুর আক্তারকে। দেড় বছরের দাম্পত্য জীবনেই থেমে যায় তাঁদের স্বপ্ন। শেষ বিদায়ে পুরো এলাকা নেমে আসে শোকের ছায়ায়।

ভোরের আকাশ্এসএইচ

গাইবান্ধাসবুজ মিয়া

শেয়ার করুন: