ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে টানা বৃষ্টিপাতে জমির ধান তলিয়ে যেতে দেখে আহাদ মিয়া (৫০) নামে এক কৃষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে৷ নিহত আহাদ মিয়া একই গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মৃতের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় কৃষক আহাদ মিয়া শ্রমিক নিয়ে হাওরে তার জমির পাকা ধান কাটতে যান। তবে জমিতে গিয়ে দেখেন তার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তখন তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কৃষক আহাদ মিয়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধানের আবাদ করেছিলেন আহাদ মিয়া। শনিবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে মাঠে গেলে তিনি দেখেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাঁর পুরো জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান।
পরিবারের দাবি, তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন। তবে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বর্ণনা অনুযায়ী তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
নিহতের বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, “জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যেতে দেখে আমার ভাই সহ্য করতে পারেনি। ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়ে মারা যায়।” তিনি আরও জানান, আহাদ মিয়ার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।
ভাতিজা ফারুক মিয়া বলেন, “চাচা ঋণ করে আবাদ করেছিলেন। সব ধান ডুবে যাওয়ায় তিনি এ শোক সইতে পারেননি।” জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক দুধ মিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল জানান, খবর পেয়ে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিহত কৃষকের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, “উপজেলায় অনেক কৃষকের ধান বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।
ঘটনা সত্য হলে তাঁদের নাম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
ভোরের আকাশ/ র.ই