সাঘাটায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গ্যাসের ট্যাবলেট সেবনের পর আলামিন হোসেন ও তাজনিন আক্তার নামে প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে।
নিহত আলামিন হোসেন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নেরন রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে। তাজনিন আক্তার একই উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোদা দুপুরে দুই জন মারা যাওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন । সকালে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে ওসি জানান ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে তাজনিন আক্তারের সাথে ৪ বছর পদুমশহর ইউনিয়নের সিংড়ার বাজার গ্রামের ফরহাদের সাথে বিবাহ হয় । সেই সংসারে দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এই সংসার চলাকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে অবিবাহিত যুবক আলামিনের সাথে টিকটকের মাধ্যমে তাজনিনেন পরিচয় হয় ।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে (১০ অক্টোবর) শনিবার তাজনিন আগের স্বামী ফরহাদকে ছেড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আলামিনের কাছে আসেন। তারা ঢাকায় গিয়ে বিয়ে করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। আলামিনের পরিবার বিষয়টি না নিয়ে তাজনিন আক্তারকে মারধর করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পরিবারের সদস্যরা তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে আলামিন হোসেন ও তাজনিন আক্তার দুজনই গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয় । পরে স্থাণনীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোদা জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম