জামালপুরে ভ্যান চালকের রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

জামালপুরে সুজন মোল্লা ফকির (৪৫) নামের এক ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী চামেলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের কানাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন মোল্লা ফকির একই এলাকার মৃত আবু মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো নিজ ঘরে ঘুমাতে যান সুজন মোল্লা ফকির। পরে আজ রবিবার সকালে সুজন মোল্লা ফকির বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। বাথরুমে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বাথরুমের দরজায় পিছলে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তার স্ত্রী তাকে অচেতন অবস্থায় ঘরে নিয়ে আসলে সুজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। পরে দুপুরে পিবিআই ও পুলিশ নিহতের সুরতহাল করে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত সুজন মোল্লা ফকিরের স্ত্রী চামেলী বেগমকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবী সুজনকে তার স্ত্রী গলা টিপে হত্যা করেছে। সুজন ও চামেলী দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ভ্যানগাড়ী চালিয়ে সুজন জীবিকা নির্বাহ করত।
নিহতের ভাই রুবেল মিয়া বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিলো। আজ শুনি আমার ভাই মারা গেছে। তার গলায় ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
ভোরের আকাশ/রই