গাজীপুর জুড়ে বিক্ষোভ, বিভিন্নস্থানে সড়ক অবরোধ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে গাজীপুর জুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা জেলার বিভিন্নস্থানে সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি, জুলাই-৩৬ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ এলাকাবাসি এসব কর্মসূচি পালন করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রাতেই চান্দনা চৌরাস্তাসহ জেলার বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করেন।
শুক্রবার সকালেও জেলার বিভিন্নস্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি, জুলাই-৩৬ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ এলাকাবাসি। জুমার নামাজের পর গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, শিববাড়ি মোড়, ডুয়েট এলাকায়, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, কোনাবাড়ি, টঙ্গী কলেজ গেইটসহ বিভিন্ন এলাকায় জুলাই যোদ্ধারাসহ সাধারণ শিক্ষার্থী, মুসুল্লি ও বিভিন্ন দলের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন।
আজ দুপুরে জুমার নামাজের পর কালিয়াকৈরের সফিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর সামনে হতে তৌহিদী জনতা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে হয়ে গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আসে। এসময় সেখানে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা হাদী হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের ভারত ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় দূতাবাসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
প্রায় একই সময়ে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের ঈদগাহ মাঠ থেকে গাজীপুর মহানগর ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।গাজীপুরের সর্বস্তরের আলেম ওলামা, তৌহিদী জনতা ও সাধারণ মুসল্লীগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে ওই মিছিলটি চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনঃরায় ঈদগাহ মাঠে এসে প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করেন।
এছাড়া শুক্রবার বাদ জুমা গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার উদ্যোগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র, ইঞ্জিনিয়ার পিকোর পরিচালনায় মিছিলটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিববাড়ি মোড়স্থ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন সদর থানা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মোঃ ছাদেকুজ্জামান খান, সাদিকুর রহমানসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে দুপুর পৌণে ১টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদির খুনীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন কলেজ গেইটের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এসময় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করেন।
তারা স্লোগানে স্লোগানে প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
এসময় বিক্ষোভকারীরা হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় ছাত্র-জনতা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
জিএমপির বাসন থানার ওসি মোহা. হারুন অর রশিদ জানান, জুমার নামাজের পর কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ