বিদেশে দুর্ঘটনায় পঙ্গু সাদা মিয়া, মানবিক সহায়তার আশা পরিবারের

জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা সাদা মিয়া। আশা ছিল কষ্টের দিন বদলে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাহরাইনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হারিয়েছেন চলাফেরার স্বাভাবিক সক্ষমতা। এখন বিছানা আর হুইলচেয়ারই তার জীবনের একমাত্র ভরসা।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে সংসারের অভাব দূর করতে জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে বাহরাইনে যান সাদা মিয়া। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজের কিছুদিনের মধ্যেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনায় তার দুই পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তার শরীরে একের পর এক চারটি অস্ত্রোপচার করেন। জীবন বাঁচাতে কোমর থেকে দুই পায়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রগ কেটে ফেলতে হয়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়।
দেশে ফিরে নতুন করে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। বিদেশে যাওয়ার খরচ আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। বর্তমানে গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ায় ছোট্ট একটি টিনের দোচালা ঘরে অসুস্থ মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাদা মিয়া।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন দুই বেলা থেরাপি নেওয়ার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও সম্ভব হচ্ছে না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাদা মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক টাকা খরচ করছি। এখন চিকিৎসা করানোর মতো কোনো সামর্থ্য নাই। মানুষের সাহায্য ছাড়া আমরা চলতে পারতেছি না। আপনারা সকালেই আমার পাশে এসে দাঁড়ান।
স্বামীর সব ধরনের দেখভাল করছেন স্ত্রী আয়না বেগম। খাওয়ানো থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, সংসার চালানো আর চিকিৎসা করানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আমার স্বামী আবার কিছুটা সুস্থ হতে পারবেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ভোরের আকাশকে বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন করলে সাদা মিয়াকেও সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।'
ভালো থাকার আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন সাদা মিয়া। কিন্তু এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা, ভেঙে দিয়েছে পরিবারের সব স্বপ্ন। এখন মানবিক সহায়তাই হতে পারে এই অসহায় পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার আশার আলো।
ভোরের আকাশ/ইউএম