শিরোনাম
সোনার ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ৩২৪ টাকাতেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার অঙ্গীকার সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচনডিসেম্বরে নির্ধারণ হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিসীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ডাক টিকেট উন্মোচনরিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরাগাজীপুরে ফের পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপজিয়াউর রহমানের সমাধিতে চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধাসোনার ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ৩২৪ টাকাতেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার অঙ্গীকার সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচনডিসেম্বরে নির্ধারণ হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিসীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ডাক টিকেট উন্মোচনরিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরাগাজীপুরে ফের পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপজিয়াউর রহমানের সমাধিতে চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছয় যুগেও মেলেনি নদীভাঙন থেকে মুক্তি, আতঙ্কে নোয়াখালীর দুই ইউনিয়নের মানুষ

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

নদীভাঙনে বছরের পর বছর বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের স্বপ্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে দীর্ঘ ছয় যুগেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করেও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ও চরহাজারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। স্থায়ী বাঁধ ও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা এলেই ফেনী নদীর ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটে এসব এলাকার মানুষের।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের আগেই এ অঞ্চলে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। ২০০২ সালে কাজীরহাট স্লুইসগেট ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে নদীর দুই পাড়ের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে ফেনী নদীর পানির স্রোত বাড়লে ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার ভাঙনে নতুন নতুন পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হলেও নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে চরপার্বতী-উত্তর চরসাহাভিকারী স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উদ্যোগে মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি।

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোত ও সময়ের ব্যবধানে অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যকারিতা হারায়।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির চাপে মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক পরিবার জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষ বরাবরই সচেতন ভূমিকা পালন করেছেন। চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা বিপুল ভোটে কাজী মোহাম্মদ হানিফকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলেও নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান পাননি। জাতীয় নির্বাচনেও বিভিন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন তাঁরা। তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, চরহাজারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হলেও একই উপজেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সমানভাবে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা হারাচ্ছেন ফসলি জমি ও উৎপাদিত ফসল। একই সঙ্গে জেলেদের জীবিকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় নারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গণমাধ্যমে একাধিকবার এ অঞ্চলের সমস্যা তুলে ধরা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, দীর্ঘসূত্রতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

নোয়াখালীতে জেলা পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৫৯ সদস্য আটক

এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, কার্যকর স্লুইসগেট স্থাপন, টেকসই সেতু নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতী ও চরহাজারী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এ দুর্ভোগের অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: