মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে মন্ত্রীর অভিযান

মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে মন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাট। জেলার পাঁচটি উপজেলার সঙ্গেই বিশাল সীমান্ত রয়েছে ভারতের। আর এ কারণে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান ঘটে এ জেলা দিয়ে। এর চরম প্রভাবও পড়েছে জেলায়।
মাদক বিশেষ করে ফেনসিডিলসহ আরও কিছু মাদক সীমান্ত পেরিয়ে জেলায় বিভিন্ন স্থানে ঢুকছে। আর লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকেও মাদকসেবীরা ছুটে আসছেন জেলার সীমান্ত এলাকাগুলোতে। প্রশাসন নানাভাবে চেষ্টা করেও মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারছে না। অবশেষে জেলাকে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে নেমেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।রোববার সন্ধ্যার পর নিজেই মাদক বিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করেছেন। মন্ত্রীর এমন সাহসী ও সরাসরি পদক্ষেপে জেলাজুড়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে শনিবার বিকালে লালমনিরহাটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত ধরে সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ এর যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই মন্ত্রী নিজেই সংগঠনের ব্যানারে মাঠে নেমে পড়ে মাদকের বিরুদ্ধে। রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের চইলতার তল এলাকায় অভিযানের সময় তিন মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মোগলহাট ও কুলাঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বেশির ভাগই জেলার বাইরের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে মাদকব্যবসায়ীরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আগইে গা ঢাকা দিয়েছে।
অভিযান শেষে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, লালমনিরহাটের পরিবেশ যারা নষ্ট করছে, বাইরে থেকে এসে যারা মাদকের মরণ নেশা ছড়াচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে প্রশাসনকে সাহায্য করার পাশাপাশি আমরা একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই। ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ এর এ কার্যক্রম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী দিনেও মাদকের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, কেবল মাদক নয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোও আমরা পর্যায়ক্রমে সমাজ থেকে নির্মূল করব। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন মন্ত্রী নিজেই মাদকের বিরুদ্ধে এভাবে মাঠে নেমে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জেগেছে। অতীতে মাদকের বিরুদ্ধে অনেক কথা হলেও এমন সরাসরি অ্যাকশন আগে দেখা যায়নি।
ভোরের আকাশ/এনউব