বিয়েবাড়িতে প্রশাসনের ‘হানা’: জরিমানা গুনে শূন্য হাতে ফিরল বরযাত্রী

বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, বরযাত্রী নিয়ে হাজির বরও। সানাইয়ের সুরে মুখরিত চারপাশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিয়ের সেই আনন্দ রূপ নিলো বিষাদে। কাজী ডেকে ‘কবুল’ বলার আগেই হানা দিলো প্রশাসন। জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতেই ফাঁস হয়ে গেল আসল সত্য— বর ও কনে দুজনেই এখনও 'নাবালক'! ফলে বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না বরের, উল্টো নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা গুনে শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হলো বরযাত্রী নিয়ে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে যায় এই বাল্যবিয়ে আয়োজন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খড়কি গ্রামে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীর বিয়ের আয়োজন চলছে— এমন গোপন সংবাদ পেয়ে দুপুরে সেখানে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায়। প্রশাসনের টিম বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয়ে বর ও কনের জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই-বাছাই শুরু করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, বিয়ের জন্য আইন নির্ধারিত বয়স এখনও পূর্ণ হয়নি বর ও কনের।
আইনি বয়স না হওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিক বিবাহ আয়োজন বন্ধ করে দেয় এবং বাল্যবিয়ের উদ্যোগ নেওয়ার অপরাধে বরের পিতাকে নগদ ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সাথে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত আর কখনো এমন আয়োজন করবেন না মর্মে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।
মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায় জানান, সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে নির্মূল করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব