শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সোনারগাঁয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ কুয়া বা ইন্দারা এখন আর চোখে পড়ে না

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

এমন এক সময় ছিল মানুষের জন্য সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস ছিল কুয়া বা ইন্দারা। কোনো কোনো এলাকায় বর্ষা মৌসুমে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে নদী-নালা, খাল বিলের পানি ব্যবহার করলেও শুস্ক্য মৌসুমে কুয়া বা ইন্দারার পানিই ছিল একমাত্র ভরসা। সে সময় মানুষের জন্য সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানির জন্য স্বেচ্ছায় জমিদার ও সমাজের কিছু বিত্তবান লোকেরা অনেক পাড়া-মহল্লায় একটি করে কুয়া বা ইন্দারা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। 

এছাড়া তৎকালীন সময় বৃটিশ আমলে সরকারি ভাবে রেলস্টেশনে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের আশপাশে ইন্দারা বা কুয়া নির্মাণ করে দেয়া হয়েছিল। এমনকি কুয়া বা ইন্দারা সারাবিশ্বে পানীয় জলের একমাত্র উৎস হিসেবে জানত মানুষ। কুয়া বা ইন্দারা অনেক ঐতিহ্যপূর্ণ পুরোনো এক সংস্কৃতি। যার মূল্যবান ইসলামী অনেক ইতিহাস পাওয়া যায়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিভিন্ন বর্ণনায় কুয়া বা ইন্দারার কথা উল্লেখ্য রয়েছে।

স্থানীয় ভাবে জানা যায়, ষাটের দশকে কাজিরগাঁও এলাকার মানুষের জন্য সুপেয়, বিশুদ্ধ পানি, অযু গোসল ও দৈনন্দিন কাজের জন্য একটি কুয়া বা ইন্দিরা নির্মাণ করেছিলেন জাহের আলী নামে এক ধনাঢ্য ব্যক্তি। সে সময় কাজিরগাঁও এলাকাসহ আশপাশের পাড়া মহল্লার বৌ-ঝিরা সকাল সন্ধ্যা কলসি নিয়ে ঘর গৃহস্থলী কাজের জন্য পানি আনতে জমা হতেন ইন্দারা বা কুয়া পাড়ে।

এছাড়া গ্রীস্মকালে পুকুর, খাল, বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ের পানি প্রায় শুকিয়ে যেত, তখন কুয়া নির্মাণ করার প্রয়োজন হতো। সে সময় সমাজে যারা বিত্তবান ছিলেন, তারা সান বাধানো বিশাল পানির ইন্দারা নির্মাণ করেছিলেন। তৎকালীন সময় শহর কিংবা গ্রামে সব জায়গাতেই ইন্দারা ও কুয়া দেখা যেত। ইন্দারার ওপর চাকা লাগানো হতো, যা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ইন্দারা থেকে পানি উত্তোলনের জন্য কপিকল ব্যবহার করা হতো। এছাড়া রশিতে ছোট বালতি বেঁধে কুয়া বা ইন্দারা থেকে পানি উঠানো হতো। ১০ থেকে ১৫ ফুট গোল গর্ত, ৫০ থেকে ৬০ ফুট নিচ পর্যন্ত মাটি খুড়ে ইন্দারা, কুয়া বা কুপ তৈরি করা হতো। ইন্দারা বা কুয়ার মুখে জোরে চিৎকার করে উঠলে সেই শব্দটা কুয়া বা ইন্দারার ভিতর পুনরায় প্রতিধ্বনিত হতো।

কাজিরগাঁও এলাকার বাসিন্দা আহাম্মদ আলী জানান, কুয়া বা ইন্দিরার পানি সব সময় খুব ঠান্ডা থাকে। যার ফলে তীব্র গরমের দিনে ইন্দারা বা কুয়ার পানি উঠিয়ে গোসল করা খুব আরাম দায়ক ছিল। এখনকার দিনে সারা গ্রাম হেঁটে এলেও একটা কুয়া বা ইন্দারা খোঁজে পাওয়া যাবে না। সুপেয় পানির নিশ্চয়তায় টিউবওয়েল চলে এসেছে অনেক আগেই। বিদ্যুৎ আসায় এখন গ্রামেও পানির পাম্প ব্যবহার করে, ট্যাঙ্কে পানি ধারণ করে মানুষ সহজ করে নিয়েছে তাদের প্রাত্যহিক জীবন ব্যবস্থা। 

কুয়া বা ইন্দারা আমাদের হাজার বছর আগের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কুয়া বা ইন্দারা নিয়ে সাহিত্যে অনেক গল্প, উপন্যাস রচিত হয়েছে। সামনে এমন দিন আসছে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কুয়া বা ইন্দারা কি, কিভাবে কুয়া বা ইন্দারা তৈরি হয়েছিল, কি কাজে ব্যবহৃত হতো, তার আদ্যোপান্ত কিছুই জানবে না তারা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

 

সোনারগাঁ

শেয়ার করুন: