শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি পল্লীতে কোটি টাকার শীতবস্ত্র বেচাকেনা, যাচ্ছে সারাদেশে

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

ষড়ঋতুর এই দেশে, ক্যালেন্ডারের পাতায় চলছে অগ্রহায়ণ মাস। আর এই অগ্রহায়ণ মাসে উত্তরে জনপদ গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা অনেকটাই অনুভব করা যাচ্ছে। শীত যত বাড়ছে ততই, ব্যস্ততা বেড়েই চলছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি পল্লীতে। এখানকার শীত বস্ত্র যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। নয়ারহাটে প্রতিদিনে শীত বস্ত্র বেচাকেনা হচ্ছে কোটি টাকার উপরে।

নয়ারহাটের প্রবীণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নে গড়ে ওঠা কুটির শিল্পাঞ্চলের প্রধান বিপণনকেন্দ্র বাজারটির অবস্থান পেপুলিয়া গ্রামের নয়ারহাটে। মূলত নয়া মিয়া সরকার নামের একজন উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট্ট বাজারটি এখন সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে শীতবস্ত্রের পাইকারি বাজার হিসেবে। ব্রিটিশ আমলে গ্রামীণ এ জনপদ পরিচিতি পেয়েছে কুটির শিল্পের এলাকা হিসেবে। তখন কেবল সুতি সুতোয় হস্তচালিত মেশিনে বোনা হাত ও পায়ের মোজা শীতকালে আশপাশের হাটবাজারগুলোতে বিক্রি করতেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে উন্নত মেশিন ও উতেল সুতা আমদানি সহজ হলে এখানকার উদ্যোক্তারা শুরু করেন মোজার পাশাপাশি মাফলার, সুয়েটারসহ কয়েকটি আইটেমের শীতবস্ত্র তৈরির কাজ। দেশে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে এখন এখানে উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র।

সাদিয়া এন্ড তামিম হোসিয়ারির মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার দুই তিনটি ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী বগুড়া জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষসহ প্রায় ৫ হাজারের মতো মানুষ এই পেশার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সারা বছরই শীতের পোষাক তৈরি হলেও এ সময়টাই বিক্রি হয় বেশি। এখানকার শীতবন্ত্র এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের নামকরা শো-রুমে বিক্রি হচ্ছে। এ বাজার প্রতি দিনেই দেড় কোটি টাকার বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

সূচী ফ্যাশনের মালিক আসাদুজ্জামান মজনু বলেন, আমাদের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশ পাশে কোনো ব্যাংক না থাকায় টাকা লেনদেন করতে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া ব্যাংক থাকলে ঋণ নিয়ে ব্যবসা আর বড় করা যেত।

ইয়াসমিন হোসিয়ারী মালিক জাকিরুল ইসলাম বলেন, পুরো বছর ধরে উৎপাদিত শীতবস্ত্র সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। যত শীতের তীব্রতা বাড়বে ততই বেচাবিক্রি বাড়বে আমাদের। তবে এবার আশা করা যাচ্ছে শীত বেশি হবে। আমরা সেভাবে মালমাল বানিয়ে প্রস্তুত করে রেখেছি। তাই এবার ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।

কক্সবাজার থেকে শীতবস্ত্র কিনতে আসা জহির উদ্দিন বলেন, অন্যান্য জায়গার থেকে এখানে কম দামে কিনতে পারছি বলেই এখানে প্রতি বছরেই শীতের গরম কাপড় কিনতে আসা হয়। তবে এখানে ব্যাংকের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। আমাদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যাংক স্থাপনের দাবি করেন তিনি।

নয়ারহাট হোঁসিয়ারী শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোফাক্কের হোসেন ইকবাল, বেশ কয়েক ধরে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরণা দিয়েও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কোচাশহর পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামত করানো সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ ঘন ঘন যাওয়া আসা করে সেটার সমস্যা। নেটের কিছু ঝামেলা রয়েছে। ব্যাংকিক সেবা আমাদের এখানে নেই। ফলো দূর থেকে যে সব ক্রেতারা আসছেন তার চরম বিপাকে পড়ছেন। তাছাড়া রাত্রি যাপন করার জন্য কোনো হোটেলের ব্যবস্থাও এখানেই নেই। তাছাড়া কোচাশহর থেকে নয়ারহাটে আসার রাস্তাটিও বেশ সরু যার কারনে ট্রাকসহ বড় গাড়ি এখানে আসতে না পারায়, মালামাল ভ্যান বা ছোট পিকআপে করে কোচাশহরে নিতে দ্বিগুণ খরচ এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ভোরের আকাশকে জানান, নিশ্চয়ই আমাদের পরিকল্পনা আছে, এই কোচাশহর আমরা জানি যে ইকোনমিক হাব হিসেবে এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যবসার কেন্দ্র এখানে। আমি বিভাগীয় সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব স্যারকে বলেছি যাতে এই কোচাশহরের হোসিয়ারি পল্লীকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং জাতীয়ভাবে যেন এটাকে পদক্ষেপ নেওয়া হয় সে বিষয়ে আমরা সুপারিশ করেছি।

ভোরের আকাশ/জাআ

গাইবান্ধাশীতবস্ত্র

শেয়ার করুন: