ফেনীর সোনাগাজীতে বেড়েছে চুরি, উদ্ধার হয় না মালামাল

সোনাগাজীতে একের পর এক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বসতঘরের তালা ও টিনের চাল কেটে, সিঁধ কেটে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ মূল্যবান মালামাল চুরির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও ঘটছে।
এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিচ্ছেন। কেউ কেউ চোর শনাক্তে সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তথ্য প্রকাশ করছেন। তবে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির প্রায় পুরোটাই বহন করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরের মধ্যে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চর ডুব্বা গ্রামের বড় বাড়িতে একটি বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। জাকের পার্টির উপজেলা যুবফ্রন্টের সভাপতি ও নকলনবিশ শেখ ফরিদের ঘরের তালা ভেঙে নগদ সাত লাখ টাকা, চার ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় তিনি সোনাগাজী মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতেই আমিরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। নিজাম উদ্দিনের ভাষ্য, চোর প্রথমে বাড়ি থেকে মুরগি নিয়ে যায়। পরে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শব্দ শুনে তার মা জেগে উঠে ডাকাডাকি শুরু করেন। এতে চোর পালিয়ে যায়।
গত ৬ অক্টোবর সোনাগাজী পৌর এলাকার আল হেলাল একাডেমি রোডের মমতাজ মহলের চতুর্থ তলায় তালা ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী।
গত ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে এক সৌদি আরবপ্রবাসীর নতুন নির্মিত বসতঘর থেকে তার, পাইপ ও প্রবাস থেকে আনা বিভিন্ন সামগ্রীসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী শাহ আলমের দাবি, ঘরের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য আনা এসব মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। একই রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নে তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও ঘটে। এর আগেও ওই ইউনিয়নে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী কলেজ রোডের একটি বাসায় পরপর দুই দিন চুরির ঘটনা ঘটে। ২০ সেপ্টেম্বর আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরসোনাপুর খোন্দকার মসজিদের দক্ষিণ পাশে কাশেম আলী পণ্ডিতের পুরোনো বাড়িতে সিঁধেল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বাদামতলী এলাকায় মামুনের বাড়িতে টিনের চাল কেটে ঘরে ঢুকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে সৌদি আরবপ্রবাসী মহি উদ্দিন শিপনের ঘর থেকে নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। বিশেষ করে প্রবাসীদের বাড়ি, নির্মাণাধীন ঘর ও বসতবাড়িতে চুরির ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতেও বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের।
সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী তামহিদ বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মোট চারটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় আগেও থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধারের ঘটনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনে গ্রাহক প্রথমে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেন। বাকি অর্থ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যোগ করে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে।
যা বলছে পুলিশ
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিম বলেন, বাড়িঘর অরক্ষিত রেখে চলে যাওয়াও চুরির অন্যতম কারণ। যেসব বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বেশির ভাগেই ঘটনার সময় কেউ ছিলেন না। পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয়। এরপরও নির্জন ও দূরবর্তী কিছু এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চোরদের গ্রেপ্তার করছে। গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে মালামাল উদ্ধার হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চোর শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র