হাওরে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ৪০০ শত বছরের পুরোনো কুতুব শাহী মসজিদ

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ভাঠীর রাণী খ্যাত হাওর উপজেলা কিশোরগন্জের অষ্টগ্রামে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে ৪০০ শত বছরের পুরোনো সুলতানি স্থাপত্য কুতুব শাহী মসজিদ। নাান্দনিক কারুকাযর্ আর অপূবর্ স্থাপত্য শৈলীর অনন্য নিদর্শন এই কুতুব শাহী মসজিদ ( যা স্থানীয়ভাবে কুতুব মসজিদ নামে পরিচিত ) ।
যার নামকরনের পিছনে ও রয়েছে ইতিহাস, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এই মসজিদের ঠিক পশ্চিম পাশেই চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছে হযরত শাহ কুতুব (রহ.) ইয়ামেনী নামের এক দরবেশ যিনি স্থানীয়ভাবে শাহ কুতুব আউলিয়া হিসেবে পরিচিত। কথিত রয়েছে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর সঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার মধ্যে অন্যতম একজন হিসেবে এ অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তার নামেই এই মসজিদের নামকরন করা হয়েছে কুতুব শাহী মসজিদ।
মসজিদটির নির্মানের ইতিহাস খোজ নিয়ে জানা যায় মসজিদের গায়ে বা ফটকে কোথাও লিখিতভাবে দিনক্ষণের উল্লেখ নেই, তবে কোন সুনির্দিষ্ট শিলালিপি না থাকলেও স্থাপত্যরীতি দেখে ধারণা করা যায় এটি ১৬০০ শতকে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত। সেই হিসেবে মসজিদটির বয়স প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ বছর হবে বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটির গায়ে অংকিত কারুকার্য,নকসা,স্থাপত্যরীতি ও গঠনশৈলী মোঘল আমলের আগে স্বাধীন সুলতানি আমলের স্থাপত্যের সঙ্গে মিল খুজে পাওয়া যায়।
মসজিদটির ওপর মোট পাচঁটি গম্বুজ সুন্দরভাবে বিন্যস্ত রয়েছে, যা দূর থেকে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এর চার কোণায় রয়েছে চারটি সুদৃশ্য অষ্টভুজাকৃতি বুরুজ বা মিনার রয়েছে,যা এর কাঠামোগত সৌন্দর্যকে আর ও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সামনে পূর্ব দিকে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুইটি করে মোট পাচঁটি সুলতানি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ রয়েছে। মসজিদটির কার্নিশগুলো বক্রাকার,দেয়াল বেশ চওড়া এবং দেয়ালের বাহিরের দিকে টেরাকোটা ও পোড়ামাঠির চমৎকার কারুকাজ রয়েছে। এর এায়তন উত্তর দক্ষিণ দৈর্ঘ ৪৬ ফুট ১১ ইঞ্চি পূর্বপশ্চিম প্রস্থ ২৭ ফুট ১১ ইঞ্চি।
মসজিদটির নান্দনিক কারুকার্যও সৌন্দর্যঅবলোকন করতে শতশত বছর ধরে ধর্মপ্রান মানুষ ও পর্যটকরা দেশের দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হযরত শাহ কুতুবের মাজার এবং ্্্্্ঐতিহাসিক কুতুব শাহী মসজিদটি এক নজর দেখতে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে সুলতানি আমলের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯০৯ সালে তৎকালিন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করেন। পরবর্তীসময়ে ও এর প্রাচীন রুপ ও কাঠামো ঠিক রেখে কয়েকবার এর সংস্কার কাজ পরিচালনা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
জানা যায়,অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকলে ও বর্তমানে হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের সুবাদে এখন সারাবছরই ইতিহাসপ্রেমী,গবেষক,পর্যটকরা কুতুব শাহী মসজিদ দেখতে ছুটে আসে।
ভোরের আকাশ/ এনউব